নিজস্ব সংবাদদাতা : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে? আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানের ছক কষছেন? বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পেন্টাগনের তরফে ইতিমধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার একটি “ব্লু প্রিন্ট” প্রেসিডেন্টকে দেখানো হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা এখনও পর্যন্ত আসেনি।
সূত্রের খবর, সম্ভাব্য অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে উঠে আসছে ইরানের সেনা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং পরমাণু গবেষণা সংক্রান্ত স্থাপনাগুলি। মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ইতিমধ্যেই তিনটি মার্কিন রণতরী ও একটি সাবমেরিন মোতায়েন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যেগুলি থেকে দূরপাল্লার মিসাইল হামলা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিঙ্কন-কেও ইরানের কাছাকাছি এলাকায় আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে কিছু নৌসম্পদ সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলেও জল্পনা।
এই আবহে ইজরায়েলের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ইজরায়েলি বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই বিমান হামলার মহড়া শুরু করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে আমেরিকাকে সমর্থন করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামতে পারে ইজরায়েল। উল্লেখ্য, মাসখানেক আগেই ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে দুই দেশই নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন ঘটায়।
অন্যদিকে, ইরানও সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই চালানোর সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ইরানের সেনাপ্রধান অভিযোগ করেছেন, দেশের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিতে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে আমেরিকা, সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
মার্কিন সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইরানের সরকারি দফতরগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান নিজেদের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। কেবলমাত্র কিছু আন্তর্জাতিক বিমানের বিশেষ অনুমতিতে ওঠানামা চলছে, অন্যথায় বিদেশি বিমান প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগের হটলাইন বর্তমানে সক্রিয় নেই বলে জানা যাচ্ছে। এরই মধ্যে কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ও ইউরোপীয় দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে তুরস্ক বা আর্মেনিয়ায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে ফের একবার বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বাস্তবে আদৌ সামরিক সংঘর্ষের দিকে পরিস্থিতি গড়াবে কি না, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনীতির পথেই সমাধান হবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।