অভিজিৎ সাহা : দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে ২৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ সিদ্দিকি।প্রত্যাশামতো ভাঙড় আসন থেকে ফের লড়বেন বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য আইএসএফে যোগ দেওয়া আরাবুল ইসলাম-কে ক্যানিং পূর্ব আসনে প্রার্থী করা হয়েছে।তবে প্রার্থী ঘোষণার পরই নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বাম-আইএসএফ জোটে। আগে থেকেই চারটি আসন—নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ভগবানগোলা এবং মুরারই—নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এর মধ্যে ভগবানগোলা বাদে বাকি তিনটি আসনে আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আইএসএফ। ফলে ওই আসনগুলিতে বামেদের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, আসন সমঝোতা নিয়ে আইএসএফের সঙ্গে বামেদের দীর্ঘ আলোচনা চলছিল। প্রাথমিকভাবে ৭৩টি আসনে সমঝোতার কথা উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা কমে ২৯টিতে দাঁড়ায়। কিন্তু বিতর্কিত আসনগুলিতে পৃথক প্রার্থী দেওয়ায় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।এদিকে, ঘোষিত ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজন হিন্দু মুখ—যা মোটের উপর ৩০ শতাংশেরও বেশি। অশোকনগর, আমডাঙা, মধ্যমগ্রাম, শালবনি, বারাবনি ও বোলপুর সহ একাধিক কেন্দ্রে হিন্দু প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে আইএসএফ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বৃহত্তর ভোটব্যাঙ্কে পৌঁছনোর কৌশল নিয়েছে দলটি।সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে আইএসএফের এই পদক্ষেপ রাজ্যের বিরোধী জোট রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করল বলেই মনে করা হচ্ছে।