Skip to content

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া, মায়ের সংকটকালে দেশে ফিরতে উদগ্রীব পুত্র তারেক

1 min read

ঢাকা, জাকির হোসেন: প্রতিটি ঘণ্টাই যেন আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি সভানেত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে। ঢাকার হাসপাতাল সূত্র বলছে, ৮০ বছরের এই নেত্রীর শারীরিক জটিলতা বাড়ছেই। নানা উপসর্গে দীর্ঘদিন ভোগা খালেদা জিয়া একাধিক অঙ্গের জটিলতায় এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সংকট যতই গভীর হোক, চিকিৎসায় সামান্য হলেও সাড়া মিলছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড নজরে রাখছে প্রতিটি পরিবর্তন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দিনরাত অপেক্ষা—অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয় কি না। এই ভয়াবহ সময়ে লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের মন পড়ে আছে ঢাকায়,মায়ের শিয়রে। ফেসবুকে নিজের অসহায়তা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমারও রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।” তাঁর কথায় স্পষ্ট—দেশে ফেরার ইচ্ছে প্রবল হলেও নানা রাজনৈতিক-আইনি জটিলতার জালে আটকে আছেন তিনি। ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেশ জুড়ে উদ্বেগ। আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা, চোখের সমস্যা: অসংখ্য রোগে জর্জরিত খালেদা জিয়ার অবস্থার উন্নতি তেমন হচ্ছে না। বিপদ বাড়ায় পরিবার আর ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে রোগমুক্তির প্রার্থনায় দেশজুড়ে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও দেশবাসীকে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও আলাদা বিবৃতি দিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। লন্ডন থেকে তারেকের ফিরে আসার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কাটেনি। কিন্তু তাঁর লেখা বার্তায় স্পষ্ট,যে পরিস্থিতিকে তিনি ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা’ বলছেন, সেটা অনুকূলে এলেই তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে। এই দুঃসময়ে মাকে এক ঝলক দেখতে চাওয়া সন্তান আর রাজনীতির কাঁটাতারের বাধা—সমস্ত মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে।

Latest