নারায়ণ চৌবের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা, ‘নারায়ণ চৌবে স্মৃতি পুরস্কার’ পেল ঝাড়গ্রামের আর্ট একাডেমি!
অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়গপুর শহরের প্রাক্তন সাংসদ ও প্রবাদপ্রতিম জননেতা নারায়ণ চৌবের ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হল স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সভা। মালঞ্চ আদি পূজো কমিটি হলে মানস-গৌতম-নারায়ণ চৌবে মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি বহু মানুষের উপস্থিতি ছিল।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৌমেন চক্রবর্তীর উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে। এরপর নারায়ণ চৌবের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন অধ্যাপক ডাঃ তপন পাল। তিনি বলেন, “নারায়ণবাবুর ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য এবং অসাধারণ জ্ঞান আমাদের সবসময় মুগ্ধ করত। ছোটবেলায় তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত সৌভাগ্যের।”

দেবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ও নারায়ণ চৌবের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁকে একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।এদিন অনুষ্ঠানে ‘নারায়ণ চৌবে স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয় ঝাড়গ্রামের ‘আর্ট একাডেমি’-কে। একাডেমির কর্ণধার তথা এবারের নারায়ণ চৌবে স্মারক বক্তৃতার বক্তা সঞ্জীব কুমার মিত্র তাঁর বক্তব্যে সমাজ, সংস্কৃতি ও শিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পৃথিবীতে মানুষের হাতে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে, তা মানুষের জন্যই। আর মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল শিল্প।বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে। এ প্রসঙ্গে সঞ্জীব কুমিত্রের কন্যা বলেন, মানুষের আবেগ ও অনুভূতি শিল্পের মাধ্যমে যেভাবে প্রকাশ পায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সেই মানবিক অনুভূতি নেই। মানুষের দেওয়া নির্দেশ বা ‘ইনপুট’-এর ভিত্তিতেই AI বিভিন্ন বিষয় তৈরি করে।এই স্মরণসভায় নারায়ণ চৌবের রাজনৈতিক জীবন, সমাজের প্রতি তাঁর অবদান এবং সাংস্কৃতিক ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। অনুষ্ঠান ঘিরে মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।