খড়গপুরের শপিং মলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বেহাল দশার অভিযোগ! প্রশাসনের দ্বারস্থ শহরবাসী, অভিযানের পর বন্ধ V-Mart শোরুম!

খড়গপুরের শপিং মলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বেহাল দশার অভিযোগ! প্রশাসনের দ্বারস্থ শহরবাসী, অভিযানের পর বন্ধ V-Mart শোরুম!

নিজস্ব সংবাদদাতা : খড়গপুর শহরের বিভিন্ন শপিং মল, বহুতল ভবন, নার্সিংহোম ও হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ এবং আপৎকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠল গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদারকির অভাব ও চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহরের বাসিন্দারা। সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গ্রাহক ও শহরবাসীর মধ্যে।এই পরিস্থিতিতে শহরের বহুতল শপিং মল, নার্সিংহোম, হোটেল-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং আপৎকালীন নির্গমন পথের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন শহরের একাংশের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে ফায়ার ব্রিগেড, খড়গপুর টাউন থানা এবং মহকুমা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে খড়গপুরের মালঞ্চা এলাকার V2 শপিং মলের তিনতলায় থাকা আপৎকালীন নির্গমন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে তালা লাগিয়ে রাখার অভিযোগ। এই সংক্রান্ত ছবিও স্মারকলিপির সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, জরুরি পরিস্থিতিতে ওই দরজা ব্যবহার করতে না পারলে ক্রেতা ও কর্মীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।শহরবাসীর এই আবেদনের পর নড়েচড়ে বসেছে ফায়ার ব্রিগেড ও প্রশাসন।

মালঞ্চা রোডের বিভিন্ন শোরুমে শুরু হয়েছে তদারকি ও পরিদর্শন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতির অভিযোগের জেরে প্রশাসনের তরফে V-Mart শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।শহরবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক পরিদর্শন বা অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না।

খড়গপুরের সমস্ত শপিং মল, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, নার্সিংহোম ও হোটেলে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিশেষ করে আপৎকালীন নির্গমন পথ, ফায়ার অ্যালার্ম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা সচল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম সতর্কতা ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে বিপর্যয় এড়ানোই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। শহরবাসীর এই উদ্যোগের পর এবার প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে খড়গপুরের মানুষ।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n