৭২ বছরে খড়্গপুর যুব সংঘ, প্রতিষ্ঠা দিবসে জনকল্যাণের অঙ্গীকার!

৭২ বছরে খড়্গপুর যুব সংঘ, প্রতিষ্ঠা দিবসে জনকল্যাণের অঙ্গীকার!

অপূর্ব মজুমদার : সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ৭২ বছরে পা দিল খড়্গপুর যুব সংঘ ক্লাব। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ক্লাবের নিজস্ব ভবনে নানা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হল ৭২তম প্রতিষ্ঠা দিবস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী রাজেশ মাহাত।অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃত্য মঞ্জলিকা সঙ্গীত অ্যাকাডেমির শিশুশিল্পীদের নৃত্য পরিবেশন দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর বিশিষ্ট অতিথিদের মঞ্চে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খড়্গপুরের পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ,স্বপন সিনহা, সোহনলাল দেরী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দিবাকর চক্রবর্তী, প্রবীর হাটুই, বি. হরিশ কুমার, স্বপ্না মুখার্জী, নিশি সিনহা,সমাজসেবী দীপক কুমার দাশগুপ্ত,শিবলাল রায় চৌধুরী, শান্তি দত্ত, বৈদ্যনাথ মোহরি, রামকৃষ্ণ নন্দ, মি. মুখার্জী, রক্তদান আন্দোলনের নেতা সজল দত্ত, খড়্গপুরের অন্যতম নাট্যব্যক্তিত্ব সমীর গাঙ্গুলী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ক্লাবের সভাপতি স্বপন সিনহা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই খড়্গপুর যুব সংঘ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সারা বছর রক্তদান শিবির, চক্ষু পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার শিবির-সহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। বর্তমানে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর পড়াশোনার খরচও ক্লাবের পক্ষ থেকে বহন করা হচ্ছে।ক্লাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা অ্যাম্বুল্যান্স। তবে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে বলে জানান সভাপতি। তিনি মন্ত্রী রাজেশ মাহাতের কাছে নতুন অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আবেদন জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের একাংশও।

ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক দিব্যকর চক্রবর্তী ক্লাবের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে জানান, রেলে কর্মরত কয়েকজন যুবকের উদ্যোগে ‘মালঞ্চ কালীপুজো কমিটি’ নামে সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে বটকৃষ্ণ মোহরির উদ্যোগে মাসিক ১০ টাকা ভাড়ায় একটি ঘর নেওয়া হয়। সেখানে সাংস্কৃতিক চর্চা, পাঠাগার-সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়। ১৯৫৫ সালে বর্তমান জায়গাটি কেনা হয়। পরবর্তী সময়ে পাঠাগার বন্ধ হয়ে গেলেও শিবনাথ রায় চৌধুরী-সহ ক্লাবের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সংগঠনের কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে।

বর্তমানে সারা বছরই বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে খড়্গপুর যুব সংঘ। প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকেই সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।মন্ত্রী রাজেশ মাহাত তাঁর বক্তব্যে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৭২ বছর ধরে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে এই সংগঠন—এটাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মানুষের জন্য ভালো কিছু করার মধ্যেই সংগঠনের সার্থকতা।অ্যাম্বুল্যান্সের সমস্যার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুত সম্ভব হলে ক্লাবের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।মানুষের পাশে থাকার এই দীর্ঘ পথচলাই খড়্গপুর যুব সংঘকে ৭২ বছর পরেও এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।