Skip to content

ইরানে মিনাবের স্কুলে মৃত্যু-বৃষ্টি: ১৬৫ শিশুর প্রাণহানি, বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তারপরই সব শেষ। ১৬৫টি কোমল প্রাণ কী অপরাধ করেছিল, তা তারা নিজেরাও জানার সুযোগ পেল না। ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ফুটে উঠেছে এক বিভীষিকাময় চিত্র, যা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।Hormozgan Province-এর মিনাব শহরের ‘শাহজারে তায়েবা’ বালিকা বিদ্যালয় লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণ হারিয়েছে ১৬৫ জন শিশু, আহত আরও ৯৬। নিহতদের অধিকাংশের বয়স মাত্র ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে চলমান সংঘাতের “সবচেয়ে জঘন্য ট্র্যাজেডি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে সজ্জিত স্কুল ভবনটি। যে দেওয়ালে ছিল রঙিন আঁকিবুঁকি, সেটি এখন অর্ধেক ধসে পড়া কংক্রিটের কঙ্কাল। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া স্টিলের বিম, ভাঙা বেঞ্চ, ধ্বংসস্তূপ। উদ্ধারকাজ চলাকালীন ক্রেন দিয়ে সরানো হচ্ছে কংক্রিটের স্তূপ। তার নীচ থেকে উঠে আসছে রক্তমাখা স্কুলব্যাগ, ছেঁড়া বই, পুড়ে যাওয়া খেলনা। কালো প্লাস্টিকে মোড়া ডজন ডজন নিথর দেহ সারিবদ্ধভাবে রাখা—এক অসহায় বাস্তবের সাক্ষ্য বহন করছে সেই দৃশ্য।জানা গেছে, স্কুলটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps-এর একটি নৌঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত। প্রাথমিক অনুমান, ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে স্কুল ভবনে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন, তবু হারিয়ে যাওয়া প্রাণ আর ফিরে আসবে না।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “এই ছাত্রীরা কি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল? এর চেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধ আর কী হতে পারে?” দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এই স্কুলে বোমাবর্ষণ আমাদের জন্য সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সংবাদ। আর কত ছোট শরীর আমাদের এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলতে হবে?”মিনাবের আকাশ আজও ভারী। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া স্বপ্নগুলোর আর্তনাদ যেন থামছেই না। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যে মানবিকতার সীমা অতিক্রম করেছে, মিনাব তার নির্মম প্রমাণ।

Latest