Skip to content

মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য, অমর বিপ্লবীর ত্যাগ আজও প্রেরণা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মহানায়ক, শহীদ বাঙালি বিপ্লবী সূর্য সেনের জন্মদিনে জানাই গভীর প্রণাম ও বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন তিনি এবং মাত্র ৩৯ বছর বয়সে, ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি দেশের জন্য আত্মবলিদান দেন এই মহান বিপ্লবী। সূর্য কুমার সেন, যিনি ‘মাস্টারদা’ নামেই অধিক পরিচিত, ছিলেন একাধারে শিক্ষক, সংগঠক এবং এক দুর্ধর্ষ বিপ্লবী নেতা।

চিত্র:মাস্টার দা সূর্য সেনকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশের  বিজ্ঞাপন.jpg - উইকিসংকলন একটি মুক্ত পাঠাগার

পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া সূর্য সেন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক সাহসী অধ্যায়। তাঁর সংগঠিত বাহিনী কয়েকদিনের জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে কার্যত মুক্ত করে দেয়—যা তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ শাসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।বিপ্লবী অনন্ত সিংহ একসময় সূর্য সেনকে নিয়ে বলেছিলেন, এক শান্ত-স্বভাবের নিরীহ শিক্ষকই একদিন মাতৃভূমির উপর দীর্ঘদিনের অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে জ্বলে উঠবেন—এ কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ১৮৫৭-র সিপাহী বিদ্রোহ দমনে বর্বরতা কিংবা জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংসতার প্রতিশোধের আগুন তাঁর মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলেছিল। সেই আগুনই ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের গ্রামেগঞ্জে, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।মাস্টারদা সূর্য সেনের আত্মত্যাগ ও আদর্শ আজও স্বাধীনতা, সাহস এবং সংগ্রামের প্রেরণা হয়ে রয়েছে। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে। কলকাতা মেট্রোতেও তাঁর স্মরণে একটি স্টেশনের নামকরণ হয়েছে ‘মাস্টারদা সূর্য সেন মেট্রো স্টেশন’। এছাড়া রাউজান এলাকায় তাঁর নামে গেট ও প্রতিকৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।আজ তাঁর জন্মদিনে দেশজুড়ে তাঁকে স্মরণ করছে মানুষ—এক মহান বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন প্রজন্ম আবারও শপথ নিচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার।

Latest