গৌরবের ৬৬ বছর পূর্তি,কে.ডি কলেজে জমকালো প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন!
নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনীপুরের কৈবল্যদায়ীনি কলেজ অফ কমার্স এন্ড জেনারেল স্টাডিজের (KD) প্রতিষ্ঠা দিবস। ৬৬ বছরের গৌরবময় পথচলা পূর্ণ করল মেদিনীপুর কে.ডি কলেজ। মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে কলেজ প্রাঙ্গণে পালিত হল প্রতিষ্ঠানের ৬৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এদিন কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় বর্ণময় অনুষ্ঠান। পতাকা উত্তোলন ও রোড র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি।এরপর অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিশেষ সম্মাননা পর্ব। কলেজের মেধাবী ও কৃতী পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বিশিষ্টজনদেরও সম্মানিত করা হয়। পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে কলেজের বর্তমান পড়ুয়াদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক শঙ্কর কুমার গুছাইত, বিশিষ্ট লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও সমাজকর্মী রোশেনারা খান, টিচার ইনচার্জ পাণ্ডব চন্দ্র মাঝি, কলেজের অধ্যক্ষ দুলাল চন্দ্র দাস, প্রাক্তন অধ্যক্ষ দিলীপ নিয়োগী, কলেজ কমিটির সেক্রেটারি মিলন কুমার সরকার,মদন মোহন মাইতি -সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়ারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।প্রতিষ্ঠা দিবসের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘প্রিন্সিপাল পি.কে. সান্যাল মেমোরিয়াল লেকচার’। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোশেনারা খান অতীতের সমাজব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ, বিধবা বিবাহ এবং সেই সময়ের নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যাগুলির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার বার্তা দেন।৬৬ বছরের দীর্ঘ পথচলায় কলেজের শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান এবং বিভিন্ন সাফল্যের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা কলেজের ঐতিহ্য ও গৌরবকে সঙ্গে নিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দিনের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান,নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। ৬৬তম প্রতিষ্ঠা দিবসকে ঘিরে শিক্ষক, পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের মধ্যে আবেগ ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি উদযাপনের পাশাপাশি আগামী দিনে কৈবল্যদায়িনী কলেজ আরও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাবে—এই আশাবাদেই শেষ হয় বর্ণময় প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান।