কানাইলাল পাখিরা: ঘাটাল মহকুমায় বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হলেও বাস্তব চিত্রে অসন্তোষ বাড়ছে। সেচ দপ্তরের নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী শিলাবতী নদী ও কংসাবতী নদী-র নিম্নাংশ, বিভিন্ন খাল ও নদী এবং রূপনারায়ণ নদী-র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অংশ দ্রুত পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে সরব হল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি। ঘাটালে সেচমন্ত্রীর ডাকা উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটির বৈঠকের প্রাক্কালে ই-মেলের মাধ্যমে মন্ত্রীর কাছে ১০ দফা দাবি-সহ একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে ঘাটালের মহকুমা শাসক এবং সেচ দপ্তরের ঘাটাল মহকুমা আধিকারিকের কাছেও ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের গতি সন্তোষজনক নয় বলেই অভিযোগ।
কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, আবেদন ও জনচাপের পর অবশেষে রাজ্য সরকারের সেচ ও জলপথ দপ্তরের উদ্যোগে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন। শিলাবতী নদীর কিছু অংশ এবং অন্যান্য খাল-নদীর কয়েকটি এলাকায় কাজ শুরু হলেও বাস্তবে অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। তার অভিযোগ, ২০২৫ সালে শিলাবতী নদী সংস্কারের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার পর গত ডিসেম্বর থেকে প্রায় তিন মাস কাজ চললেও এখনও অর্ধ কিলোমিটার অংশও সম্পূর্ণ সংস্কার হয়নি। মাস্টার প্ল্যানের অন্তর্গত অন্যান্য কাজের অবস্থাও একই রকম। এই পরিস্থিতিতে আগামী বর্ষার আগেই কাজ শেষ না হলে ঘাটাল মহকুমা ফের বন্যার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। নারায়ণবাবু আরও জানান, এ বিষয়ে বিশদ আলোচনার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি জলসম্পদ ভবনে মন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনও সাক্ষাতের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ মেলেনি। যদিও আজ ঘাটালে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে, তার আগেই স্মারকলিপির মাধ্যমে নিজেদের দাবি স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিটি।

স্মারকলিপির ১০ দফা প্রস্তাবের মূল দাবি
স্মারকলিপিতে যে গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি তোলা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- শিলাবতীর নিম্নাংশে নির্ধারিত ২৩ কিলোমিটার সংস্কারযোগ্য অংশ অবিলম্বে চিহ্নিত ও মার্কিং করা।
- নদীর ভেতরে থাকা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ও গাছ অপসারণে দ্রুত মাইকিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
- নদীর চরে সংস্কারকৃত মাটি রাখার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ।
- দুর্বল বা অনুপস্থিত নদীবাঁধের অংশে শক্তপোক্ত বাঁধ নির্মাণ।
- সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন।
- নদী ও খালগর্ভে যত্রতত্র মাটি কাটা বন্ধ।
- কাজের গতি বাড়িয়ে প্রয়োজনে একাধিক ভাগে দায়িত্ব বণ্টন করে বর্ষার আগে অধিকাংশ কাজ সম্পূর্ণ করা।
- শিলাবতীর পাশাপাশি কংসাবতীর রামচন্দ্রপুর থেকে পাঁশকুড়ার শ্যামপুর পর্যন্ত এবং রূপনারায়ণের পূর্ব মেদিনীপুর অংশে দ্রুত ড্রেজিং ও পূর্ণ সংস্কার।
- চন্দ্রেশ্বর খালকে শিলাবতীর সঙ্গে সংযুক্তিকরণ, পাম্প হাউস ও ডোয়ার্ফ ওয়াল নির্মাণ।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে কংক্রিটের সেতুগুলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ।
কমিটির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, উপরোক্ত দাবিগুলি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।