আর্জেন্টিনা : ২ | অস্ট্রিয়া : ০
নিজস্ব সংবাদদাতা: GOAT? নাম একটাই—লিওনেল মেসি।মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ থেকে মেসির ‘গোল্ডেন ফুট’—২২ জুন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন হয়ে রইল। আর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মুখে একটাই ধ্বনি—“মেসিইইইইই!”। অবিশ্বাস্য, মায়াবী, জাদুকরী—লিওনেল মেসিকে বর্ণনা করার জন্য যেন কোনও বিশেষণই যথেষ্ট নয়। বয়স কেবল সংখ্যা, আর সেটাই যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে উঠে এলেন তিনি।

১৮ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের দীর্ঘদিনের ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন এলএম টেন। আর এই কীর্তির দিনটি আরও বিশেষ, কারণ ২২ জুন—যে দিনটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর জন্য। সেই একই দিনে মেসির ‘গোল্ডেন ফুট’ নতুন করে লিখল আর্জেন্টিনার ফুটবল গৌরবগাথা।বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা গেল মেসির রূপকথা। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি। একটি পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বল পোস্টের ধারেকাছেও রাখতে পারেননি তিনি। কিন্তু মহান ফুটবলারদের পরিচয়ই হল প্রত্যাবর্তন, আর সেটাই করলেন মেসি।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বাঁদিক থেকে আসা একটি নিখুঁত মাইনাস পাসকে নিজের স্বভাবসিদ্ধ দক্ষতায় জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ফুটবলপ্রেমীরা বহুবার এই ধরনের গোল দেখেছেন, তবুও মেসির পায়ের জাদুতে মুগ্ধতা যেন কখনও ফুরোয় না।এরপর ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে আরও একবার জ্বলে ওঠেন তিনি। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডারের দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। সেই গোলের সঙ্গেই ভেঙে যায় বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের রেকর্ড।

ম্যাচ শেষে মেসি জানান, পেনাল্টি মিস করার পর তিনি নিজের ওপর ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন। তবে সেই হতাশাকেই শক্তিতে পরিণত করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। অন্যদিকে নিজের রেকর্ড ভাঙার পর জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজেও অভিনন্দন জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকাকে। তাঁর মতে, “রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়, আর মেসির মতো একজন ফুটবলারের হাতে সেই রেকর্ড যাওয়া সম্মানের।”