পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন ধর্মা এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে থাকা একটি জলাশয় ভরাটকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, কোনো রকম প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় একটি পূজা কমিটি মাটি ফেলে ওই পুকুরটি ভরাট করে দিচ্ছে। জাতীয় সড়কের ধারে থাকা এই ধরনের জলাশয় বা নয়ানজুলি বর্ষার সময় জল নিকাশির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা উপেক্ষা করেই চলছে ভরাটের কাজ—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পূজা কমিটির এক সদস্য কার্যত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রশাসনের কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়াই কাজ শুরু হয়েছে। ফলে গোটা ঘটনাটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

এ প্রসঙ্গে মেদিনীপুর সদরের বিএলআরও নিউটন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভরাটের অভিযোগ পাওয়ার পর ভূমি রাজস্ব দপ্তরের তরফে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে নাকি জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিটি পূর্ত দপ্তরের অধীন। সেই কারণে পূর্ত দপ্তরকে চিঠি দিয়ে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারির জন্য পুলিশকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের। তবে এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পুকুর বা নয়ানজুলি ভরাট রুখতেই বারবার কড়া নির্দেশিকা জারি করে থাকে ভূমি রাজস্ব দপ্তর।

এমনকি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার জাতীয় সড়কের ধারে থাকা নয়ানজুলি বা জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ‘চিঠি চালাচালি’ করেই কি নিজেদের দায়িত্ব শেষ করতে পারে ভূমি রাজস্ব দপ্তর—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের তীব্র নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই দিনের পর দিন জলাশয় ভরাটের মতো বেআইনি কাজ চলছে। অবিলম্বে ভরাট বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে তারা। এখন দেখার, বিষয় জাতীয় সড়কের ধারে গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় ভরাটের এই অভিযোগে প্রশাসন বাস্তবে কতটা কঠোর পদক্ষেপ করে, নাকি দায় এড়ানোর চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে গোটা বিষয়টি।