নিজস্ব সংবাদদাতা : আগামী বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে কেকেআরের বিরুদ্ধে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে নামার আগে শহরে পা রেখেই যেন বাড়ির আবহে ঢুকে পড়লেন মহম্মদ শামি। আত্মবিশ্বাস ঝরছিল মহম্মদ শামির চোখেমুখে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাইপাসের এক পাঁচতারা হোটেলে সিএবি-র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে শামি স্পষ্ট করে দিলেন—ইডেন তাঁর কাছে শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, একেবারে ঘরের মাঠ। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ—বারবার এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। শামির কথায়, ইডেনের পরিবেশ, উইকেট—সবই তাঁর চেনা, আর সেটাই ম্যাচে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

তবে প্রতিপক্ষ কেকেআরকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ এই পেসার। তাঁর মতে, নাইটরা অনেকদিন ধরেই ইডেনে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলছে, ফলে ঘরের মাঠে তাদের সুবিধা কিছুটা বেশি থাকবেই। এই মন্তব্য করার সময় পাশে ছিলেন কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং—যা মুহূর্তটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।সম্প্রতি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দুরন্ত বোলিং করে ম্যাচের সেরা হয়েছেন শামি। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেওয়া তাঁর ফর্মেরই প্রমাণ। চলতি আইপিএল মরশুমেও তিনি ছন্দে রয়েছেন, যদিও জাতীয় দলে এখনও সুযোগ পাননি। এই প্রসঙ্গে শামির সহজ সরল স্বীকারোক্তি—“আমরা শ্রমিকের মতো কাজ করি, শুধু বল করে যাই। জীবনে ওঠাপড়া থাকবে, চোট থাকবে, কিন্তু পরিশ্রম থামানো যাবে না।” কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার নিজের শিকড় ভোলেননি। উত্তরপ্রদেশে জন্ম হলেও বাংলাকেই তিনি নিজের কর্মভূমি হিসেবে দেখেন। শামি আরও জানালেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি তাঁর টান এখনও অটুট। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে চান তিনি। ইডেনে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তাই এক অনন্য আবহ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে—একদিকে ঘরের দল কেকেআর, অন্যদিকে ‘ঘরের ছেলে’ শামি। গ্যালারিতে সমর্থনের ঢেউ কোনদিকে বেশি যাবে, সেটাই এখন দেখার।