নিজস্ব সংবাদদাতা : রবিবার গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি থার্মোকলের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও দ্রুত তা পাশের একটি অনলাইন বিপণন সংস্থার গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত আড়াইটে নাগাদ হঠাৎই নাজিরাবাদ এলাকার ওই থার্মোকল গোডাউন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। থার্মোকল অত্যন্ত দাহ্য বস্তু হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন বিধ্বংসী রূপ নেয়।

আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে পাশের অনলাইন স্টোরের গোডাউনটিকেও। ওই গোডাউনে বিপুল পরিমাণ কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় বলে দাবি বাসিন্দাদের। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও বেশ কয়েকজনের দগ্ধ দেহ উদ্ধারের পর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮। এখনও অন্তত ২০ জন নিখোঁজ বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এলাকায় তাঁদের আত্মীয়-পরিজনের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্বজনকে হারিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও সদুত্তর মিলছে না বলে দাবি অনেকেরই পরিবারের সদস্যের। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩ জন বাসিন্দা নিখোঁজ বলে জানতে পারা গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল, তমলুক ব্লকের বাসিন্দা দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা, নন্দকুমারের বরগোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি- সহ মোট ১৩ জন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি।জানা গিয়েছে, মৃত বা নিখোঁজ সকলেই পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার বাসিন্দা। কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড? প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, থার্মোকলের গোডাউনে রান্না হতো। সেখান থেকেই এই আগুন লেগেছে, নাকি অন্য কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।