স্বাধীনতা দিবসে চন্দ্রকোনা রোডে ফিরল নেতাজির আবক্ষ মূর্তি, আবেগে ভাসল গোটা এলাকা!

স্বাধীনতা দিবসে চন্দ্রকোনা রোডে ফিরল নেতাজির আবক্ষ মূর্তি, আবেগে ভাসল গোটা এলাকা!

অভিজিৎ সাহা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। স্বাধীনতা দিবসের দিন চন্দ্রকোনা রোড সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে ফের যথাস্থানে প্রতিষ্ঠিত হল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আবক্ষ মূর্তি। মূর্তি পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি তার সুরক্ষায় ছাউনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ১৫ আগস্ট ‘পুনশ্চ’ প্রবীণ নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান।২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি পথচলা শুরু করে চন্দ্রকোনা রোডের প্রবীণ নাগরিক সংগঠন ‘পুনশ্চ’। সংগঠনের উদ্যোগে এবং প্রাক্তন অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ দীনবন্ধু রায়ের সহযোগিতায় সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে স্থাপন করা হয়েছিল নেতাজির আবক্ষ মূর্তি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে মূর্তিটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।নেতাজির স্মৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দিতে মূর্তিটির সুরক্ষায় স্থায়ী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ‘পুনশ্চ’। সংগঠনের হিমাংশু ব্যানার্জি, প্রণব তেওয়ারি, অশ্বিনীকুমার মণ্ডল, নিতাইচরণ সামন্ত, রতনচন্দ্র পাল ও কল্পনা ঘোষের আর্থিক সহযোগিতায় ছাউনি নির্মাণ সম্পন্ন হয়।এরপর মূর্তি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘পুনশ্চ’-র সম্পাদক ডা. হিমাংশু ব্যানার্জি, সভাপতি প্রণব তেওয়ারি, কোষাধ্যক্ষ রতনচন্দ্র পাল এবং সদস্য অমল কুমার সেন ও জ্ঞানশংকর ঘোষের আবেদনে ফের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন দীনবন্ধু রায়। তাঁর আর্থিক সহায়তা ও দীর্ঘদিনের ইচ্ছাকে বাস্তব রূপ দিতে সংগঠনের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে নেতাজির আবক্ষ মূর্তিটি পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করেন।

স্বাধীনতা দিবসেই পুনঃউন্মোচন :

১৫ আগস্ট ২০২৬ স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যপূর্ণ দিনে পুনঃস্থাপিত মূর্তির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন দীনবন্ধু রায়ের পুত্র মৃত্যুঞ্জয় রায়। মূর্তি উন্মোচনের মুহূর্তে উপস্থিত মানুষের মধ্যে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।দিনভর আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও আলোচনা চক্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা রোড ডাবচা ব্যবসায়ী সমিতির চেয়ারম্যান জয়প্রকাশ লোধা-সহ ‘পুনশ্চ’-র সদস্য এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, নেতাজির আবক্ষ মূর্তি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তাই মূর্তির পুনঃস্থাপন ও সুরক্ষার মাধ্যমে নেতাজির আদর্শ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।স্বাধীনতা দিবসে নেতাজির মূর্তি ফের যথাস্থানে ফিরে আসায় চন্দ্রকোনা রোডে নতুন করে জেগে উঠল ইতিহাস, স্মৃতি ও দেশপ্রেমের আবেগ।