নিজস্ব সংবাদদাতা: এলপিজি সিলিন্ডারের বুকিংয়ের নতুন নিয়ম ঘিরে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রান্নার গ্যাসের সঙ্কট কাটেনি, তার মধ্যেই বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গৃহস্থের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ডবল বা দুটি সিলিন্ডার কানেকশন থাকলে এখন থেকে একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করতে কমপক্ষে ৩৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ২৫ দিন। তবে সিঙ্গল সিলিন্ডার কানেকশনের ক্ষেত্রে আগের মতোই ২৫ দিন পর বুকিং করা যাবে। অন্যদিকে, ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম চালু হয়েছে। ৫ কেজির সিঙ্গল সিলিন্ডার ৯ দিন পর বুক করা যাবে, আর ডবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১২ দিন অপেক্ষা বাধ্যতামূলক। উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য ৫ কেজির সিলিন্ডার পুনরায় বুক করতে ১৬ দিন সময় লাগবে। ১০ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ডেলিভারির ২৫ দিন পর বুকিং করা যাবে। ডিলারদের দাবি, উজ্জ্বলা যোজনার ডবল সিলিন্ডার গ্রাহকদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। সেখানে একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির পর পরবর্তী বুকিংয়ের জন্য ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ডিলার সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্যাসের বরাদ্দ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কম সরবরাহেই সমস্ত গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। বুকিংয়ের পর গ্যাস ডেলিভারি পেতেও এখন ১২ থেকে ১৩ দিন সময় লাগছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে তৃতীয়বার বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন হল। আগে ২১ দিন পর বুকিং করা যেত, পরে তা ২৫ দিনে বাড়ানো হয়, আর এখন তা সরাসরি ৩৫ দিনে পৌঁছেছে। এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বহু পরিবার জানাচ্ছে, এক মাসের আগেই গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে বড় পরিবারগুলির ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট। ১০-১২ জন সদস্যের পরিবারে একটি সিলিন্ডার ২৬-২৮ দিনের বেশি টেকে না বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির চাপে অনেকেই বিকল্প পথে হাঁটছেন। ইন্ডাকশন কুকার, ইলেকট্রিক কেটলি, মাইক্রোওয়েভ কিংবা এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার বাড়ছে। তবে যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা আবার কাঠ, কয়লা বা ঘুঁটের মতো পুরনো জ্বালানির দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এই সিদ্ধান্তে কি সত্যিই সঙ্কট সামলানো যাবে, নাকি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই আরও বাড়বে?
গ্যাস সঙ্কটে নতুন চাপ: এলপিজি বুকিংয়ে ৩৫ দিনের নিয়মে বিপাকে গৃহস্থরা