Skip to content

UPI ও FASTag ছাড়া টোল নয়,১০ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়ম জারি!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশের জাতীয় সড়কে যাতায়াতের অভিজ্ঞতায় বড়সড় বদল আসতে চলেছে চলতি মাসেই। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশের কোনও জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় আর নগদ টাকা নেওয়া হবে না। অর্থাৎ, টোল দিতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হবে FASTag বা UPI। দীর্ঘদিনের যানজট, লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট এবং নগদ লেনদেন ঘিরে বিতর্ক— সব কিছুরই স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই এই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসন। দিল্লি-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে, মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে, গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারাল-সহ দেশের ব্যস্ততম হাইওয়েগুলিতে টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনের সমস্যা বহুদিনের। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ টোল লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে, ফলে ১০ এপ্রিলের পর সম্পূর্ণ নগদহীন ব্যবস্থায় যেতে প্রযুক্তিগত সমস্যা খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। বরং এতে টোল পারাপার আরও দ্রুত হবে এবং জ্বালানির অপচয়ও কমবে। যেসব গাড়িতে বৈধ FASTag নেই, তাদের জন্য রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বাড়তি টাকা গুনতে হবে। UPI-র মাধ্যমে টোল দেওয়া যাবে ঠিকই, তবে সেই ক্ষেত্রে সাধারণ টোলের তুলনায় ১.২৫ গুণ বেশি চার্জ দিতে হবে। আর কেউ যদি ডিজিটাল পেমেন্ট করতেই অস্বীকার করেন, তাহলে National Highways Fee Rules, 2008-এর ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ই-নোটিস পাঠানো হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা না মেটালে তা দ্বিগুণ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এই নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়বে টোল প্লাজায় বহুল প্রচলিত “আইডি দেখিয়ে ফ্রি পার” সংস্কৃতিতে। এতদিন বহু সরকারি আধিকারিক, প্রতিরক্ষা কর্মী বা ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণির মানুষ ব্যক্তিগত কাজে বেরিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে টোল না দিয়েই পার হয়ে যেতেন। এবার সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পদ্ধতি আর চলবে না। ছাড় পাওয়ার যোগ্য গাড়ির জন্য নিতে হবে Exempted FASTag অথবা আলাদা FASTag Annual Pass। সরকারি ছাড় কোনও ব্যক্তির নয়, তা সংশ্লিষ্ট দফতর বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত— এই বার্তাও পরিষ্কার করা হয়েছে। যারা নিয়মিত জাতীয় সড়কে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য FASTag Annual Pass এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই পাসের দাম হয়েছে ৩,০৭৫ টাকা, যা আগের তুলনায় ৭৫ টাকা বেশি। এক বছর বা নির্দিষ্ট সংখ্যক টোল পারাপারের জন্য এই পাস অত্যন্ত সাশ্রয়ী বলেই মত পরিবহন বিশেষজ্ঞদের। দিল্লি-আগ্রা, কলকাতা-দুর্গাপুর, মুম্বই-পুনে-র মতো দীর্ঘ রুটে কয়েকবার যাতায়াত করলেই এই খরচ উঠে আসে। এই নগদহীন ব্যবস্থা আসলে আরও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি। NHAI ইতিমধ্যেই ‘মাল্টি-লেন ফ্রি-ফ্লো টোলিং’ চালুর রূপরেখা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে টোল প্লাজায় গাড়ি থামানোর প্রয়োজনই পড়বে না। ক্যামেরা, RFID এবং অটোমেটেড নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে চলন্ত গাড়ি থেকেই টোল কেটে নেওয়া হবে। FASTag না থাকলে পরে ই-নোটিস পাঠানো হবে। হাইওয়েতে যাঁরা এখনও নগদ টাকার উপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। ১০ এপ্রিলের পর পকেটে নগদ থাকলেও জাতীয় সড়কের টোল আর দেওয়া যাবে না— ডিজিটাল পেমেন্টই একমাত্র রাস্তা।

Latest