Skip to content

খড়্গপুর ডিভিশনের আইমা এলাকায় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল রেল লাইনে ট্র্যাকম্যান!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৯শে নভেম্বর শনিবার সকালে খড়্গপুরের আইমা এলাকায় রেলের লাইনের উপর কাজ করছিলেন বছর পঞ্চান্নের মনজুর হাইদার। ওই সময় লাইনে আসা একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তাঁর। ৫৪ বছর বয়সি মনজুরের বাড়ি খড়্গপুর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবলপুর কালকাটি এলাকায়। শনিবার সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুর স্টেশন সংলগ্ন নিমপুরা ইয়ার্ডের কাছে আইমা এলাকায়, খড়্গপুর-বালেশ্বর লাইনে। এই ঘটনায় রেলের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুলে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘গ্যাংম্যান শ্রমিক ইউনিয়ন’।২০০৫ সালে বাম শ্রমিক সংগঠনের অধীন গ্যাংম্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আন্দোলনের ফলেই চাকরি পেয়েছিলেন মনজুর হায়দার-সহ বেশ কয়েকজন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে খড়্গপুরের বাম শ্রমিক নেতা অনিল দাস ওরফে ‘ভীমদা’। শনিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ও মনজুরের স্ত্রীর চাকরির দাবি করেছেন।রেল পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের ট্র্যাকম্যান পদের অন্তর্গত কি-ম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনজুর। শনিবার সকালেও সেই কাজ করছিলেন তিনি। খড়্গপুরের আইমা এলাকায় একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে খড়্গপুর জিআরপির তরফে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে শনিবার সন্ধে নাগাদ দেহ পৌঁছয় দেবলপুরের বাড়িতে।স্বামীর দেহ বাড়িতে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী পুতুল খাতুন।

medinipur rail trackman

নজুরের একমাত্র ছেলে উত্তরবঙ্গের একটি কলেজে এমবিবিএস পড়ছেন বলে খবর। বাবার মৃত্যুর খবরে সেখান থেকে রওনা দেন তিনি। এই ঘটনায় রেলের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুলে অনিল দাস বলেন, ‘ট্র্যাকম্যানেরা যখন লাইনে কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে একজন লুকম্যান থাকেন। আমাদের আন্দোলনের ফলেই রেলের বিভিন্ন শাখায় এটা চালু হয়েছে। খড়্গপুর-বালেশ্বর লাইনে এখনও কেন সেই সিস্টেম চালু হলো না, আমাদের সেটা প্রশ্ন। লুকম্যান না থাকলে, ট্র্যাকম্যান বা কি-ম্যানদের সঙ্গে একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন থাকার কথা। তাতে তাঁদের কাছে লাইনে ট্রেন আসার বার্তা পৌঁছয়।

এ ক্ষেত্রে মনজুরের কাছে সেটাও ছিল না। তাই কোনও ভাবেই এই মৃত্যুর দায় রেল এড়াতে পারে না।এই ঘটনায় রেলের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুলে অনিল দাস বলেন, ‘‘এই মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না রেল।’’ রেলপুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনিলের। তিনি বলেন, ডাউন সম্বলপুর-শালিমার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ২-৩ ঘণ্টা পরে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এই বিষয়ে খড়্গপুর জিআরপি-র এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আমরা খবর পাওয়ার পরেই দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।’’ এই বিষয়ে খড়্গপুর ডিভিশনের ডিআরএম ললিতমোহন পাণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি। তবে, এক জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই পরিবারের পাশে থাকবে রেল। নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ-সহ অন্যান্য সুবিধাও পাবে।

Latest