বেলদায় বিপ্লবী, অস্ত্রগুরু হেমচন্দ্র কানুনগোর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন!
নিজস্ব সংবাদদাতা: বেলদায় বিপ্লবী ‘অস্ত্রগুরু’ হেমচন্দ্র কানুনগোর জন্মজয়ন্তী পালিত, মাল্যদান ও শ্রদ্ধাঞ্জলিতে স্মরণ মহান বিপ্লবীকে।৪ আগস্ট। আজ বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর জন্মজয়ন্তী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন অনেক বীর বিপ্লবীর নাম রয়েছে, যাঁদের অবদান আজও সাধারণ মানুষের কাছে ততটা পরিচিত নয়। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম হেমচন্দ্র কানুনগো (হেমচন্দ্র দাস কানুনগো)। তিনি যেমন ছিলেন দুর্ধর্ষ বিপ্লবী, তেমনই ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংগঠক, প্রযুক্তিবিদ এবং জাতীয় চেতনার অন্যতম নির্মাতা।

আজকের ভারতের জাতীয় পতাকার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের ত্রিবর্ণ পতাকা, যার কেন্দ্রে রয়েছে নীল রঙের ২৪টি দণ্ডযুক্ত অশোকচক্র। স্বাধীন ভারতের এই পতাকার নকশার জন্য স্বীকৃতি পান পিঙ্গালী বেঙ্কাইয়া। তবে তারও বহু আগে, পরাধীন ভারতের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকী রূপ দিতে প্রথম জাতীয় পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন বাংলার বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগো।

১৯০৬ সালে তিনি যে পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন, তাতে ছিল তিনটি অনুভূমিক রঙ—সবুজ, হলুদ ও লাল। উপরের সবুজ অংশে ফুটে ছিল আটটি পদ্মফুল, যা তৎকালীন ভারতের আটটি প্রদেশের প্রতীক। মাঝের হলুদ অংশে লেখা ছিল ‘বন্দে মাতরম্’, আর নিচের লাল অংশে ছিল সূর্য ও অর্ধচন্দ্রের প্রতীক।

এই পতাকাই পরবর্তীকালে ভারতের জাতীয় পতাকার ধারণার ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তবে হেমচন্দ্র কানুনগোর পরিচয় শুধু পতাকার রূপকার হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন যুগান্তর গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বিপ্লবী। স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে গিয়ে বিস্ফোরক তৈরির আধুনিক কৌশল শিখেছিলেন। দেশে ফিরে সেই জ্ঞান বিপ্লবীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। তাঁর লেখা বোমা প্রস্তুতির গোপন নির্দেশিকা সেই সময়ের বিপ্লবী আন্দোলনে নতুন দিশা দেখায়।আলিপুর বোমা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে আসে। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে রাখে। কিন্তু কারাগারের কঠোর জীবনও তাঁর আদর্শকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। স্বাধীনতার স্বপ্নে অবিচল ছিলেন তিনি।