পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপিএমের ডাকে রবিবার,৪ জানুয়ারী বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। কেরানিতলা চক থেকে র্যালি শুরু হয়ে দেওয়ান বাবার চক, মিয়াবাজার ও নিমতলা হয়ে বটতলা চকে গিয়ে শেষ হয়। এই র্যালিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমসহ দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল শেষে বটতলা চকে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন মহম্মদ সেলিম।মন্দির–মসজিদ নিয়ে নয়, রাজনীতি হোক মানুষের স্বার্থে’—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি তৃণমূলের অনুন্নয়নের পাঁচালি গাইছে। কিন্তু এই দুই দলের এই পারস্পরিক রাজনৈতিক প্যাঁচে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে।

মেদিনীপুরের সভা থেকে মহম্মদ সেলিম বলেন, “এই পাঁচালি মানে আসলে তৃণমূল ও বিজেপি—দু’জনেরই প্যাঁচ কষা। সেই প্যাঁচে চিপা পড়ছে মানুষ। ভোটের আগে ওদের নাটবল্টু ঢিলে হয়ে গিয়েছে, তাই নতুন করে প্যাঁচ কষতে ব্যস্ত। ওরা ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করতে চায়, মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করতে চাইছে।”ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কড়া বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, “আমরা ধর্মাশ্রিত রাজনীতির বিরোধী। এই ধর্মাশ্রিত রাজনীতির জমি তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরএসএসের নির্দেশে।”

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিপিএম চায় হিন্দু–মুসলিম নির্বিশেষে সব মানুষ একসঙ্গে লড়াই করুক নিজেদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে।তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মানুষের শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার ও কাজের অধিকারের প্রসঙ্গ। মহম্মদ সেলিমের কথায়, ধর্ম নয়—মানুষের এই মৌলিক অধিকারগুলিই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।