নিজস্ব সংবাদদাতা : আজ পড়াশুনোয় কারো মন নেই । শীতের দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ জুড়ে ম ম করছে গরম-গরম চিলি চিকেন আর স্টিম মোমোর গন্ধ। সঙ্গে পকোড়া, চাউমিন আরো কত লোভনীয় খাবার। যেন তাকালেই জিভে জল । প্রায় ৫০ টি স্টলে নানাবিধ খাবারের পসার মেলে বসেছে স্কুলের ছাত্রীরাই । দাঁতনের বীণাপাণি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বাৎসরিক খাদ্যোৎসব "ফুড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬" ।

এলাকার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ১২০০ ছাত্রী । তাদের অভিভাবরাও আজকে গর্বিত । মেয়েরা নিজ দায়িত্বে দোকান দিয়েছে যে। ছাত্রীরা সকাল সকাল বাড়ি থেকে খাবার প্রস্তুত করে নিয়ে এসেছে । দস্তানা, ক্যাপ, মাস্ক পরে রীতিমতো স্বাস্থ্য সচেতনতা ঠিক বজায় রেখেছে। নিজেরা খাবার বিক্রি করবে এবং লভ্যাংশের হিসেবেও বুঝে নেবে।

অর্থোপার্জনের প্রথম পাঠ মিলতে পারে এখান থেকেই । স্টলগুলির নামকরণ বেশ চমকপ্রদ । যেমন হাঁউ মাঁউ খাঁউ, ছানাপোড়া, আহারে বাহারে, চটপটি ফুচকা, পেটুক, পাঁচফোড়ন, খাইখাই ইত্যাদি । আর খাবারের বৈচিত্র্য তো জিভে জল আনার মতোই । কি নেই সেখানে ? ফুচকা, ঘুগনি, লুচি-আলুর দম, মোমো, চাউমিন, আলুর-পরোটা, আলু-কাবলি থেকে শুরু করে দার্জিলিং-চা, চিলি-চিকেন, চিকেন পকোড়া, ঢোকলা, ব্রেড কাটলেট এবং ঝাল-মুড়ি পর্যন্ত । পঞ্চম থেকে দশমের শতাধিক ছাত্রী এই উৎসবে অংশ নিয়েছে ।

সপ্তম শ্রেণির সম্প্রিয়া জানা, ঐশিকি নন্দী ,পূর্বাশা দাস, সমিক্ষা পরিয়াড়ী, রিয়া দে, পৌলমী দত্ত, অনুষ্কা ভদ্র, মৌসুমী প্রমুখ ।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, আজকের দিনটি তাদের কাছে "বড়" হওয়ার দিন । নিজেরাই দোকান বসিয়েছে, আবার সেই দোকানে দিদিমণিরা খাবার কিনছেন দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত তারা । এবছর ছাত্রীদের নিয়ে এমন অভিনব সুন্দর ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষিকা মনোজবা মাইতি, প্রিয়াঙ্কা দে, সর্বানী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ । বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মণিকা টুডু বলেছেন, "আগামী বছর বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি হবে । তার প্রাক্কালে ছাত্রীদের নিয়ে এমন চারিত্রিক গঠনমূলক অনুষ্ঠান আমাদের সবাইকে উদ্দিপ্ত করছে ।