Skip to content

গড়বেতা-৩ ব্লকে দুর্নীতির অভিযোগে রাস্তায় ট্রাক মালিকরা, এক লক্ষ টাকার ‘অন্যায় জরিমানা’ ঘিরে উত্তাল চন্দ্রকোনা রোড!

অভিজিৎ সাহা : সোমবার,২ মার্চ গড়বেতা-৩ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের (BL & LRO) আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন ট্রাক মালিক ও চালকেরা। ট্রাকের মাপজোক ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল দেখিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সোমবার পথে নামেন শতাধিক ট্রাক মালিক-চালক। আন্দোলনের ডাক দেয় পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ট্রাক অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মালিকরা এসে যোগ দেন বিক্ষোভে।

সংগঠনের অভিযোগ, ট্রাকের সঠিক পরিমাপ বিকৃত করে প্রতিটি ট্রাকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা চাপানো হচ্ছে। শুধু জরিমানাই নয়, মালিকদের দফতরে ডেকে চাপ সৃষ্টি করে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার, ৫০ হাজার এমনকি এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। সোমবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ চন্দ্রকোনা রোডের সাতবাঁকুড়া এলাকায় একটি বেসরকারি গাড়ির শোরুমের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে বিশাল মিছিল চন্দ্রকোনা রোড চৌরাস্তা পরিক্রমা করে গড়বেতা-৩ BL & LRO অফিসের সামনে গিয়ে পৌঁছায়। দফতরের সামনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা। মিছিল জুড়ে শোনা যায়, “দুর্নীতি বন্ধ করো”, “ট্রাক মালিকদের শোষণ চলবে না”, “অন্যায় জরিমানা প্রত্যাহার করো”— এমন একাধিক স্লোগান।

সংগঠনের সম্পাদক প্রদীপ মণ্ডল বলেন, গড়বেতা-৩ ব্লকের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বেআইনিভাবে ট্রাক পিছু বিপুল অঙ্কের জরিমানা ধার্য করছেন। মালিকদের দফতরে ডেকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরাসরি রুজি-রোজগারের উপর আঘাত। অবিলম্বে ওই আধিকারিকের অপসারণের দাবিও তোলেন তিনি। একাধিকবার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলেই পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বিকেল তিনটে নাগাদ সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে নিরপেক্ষ তদন্ত, সমস্ত অন্যায় জরিমানা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অভিযুক্ত আধিকারিক বা জেলা প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে।ট্রাক মালিকদের আশঙ্কা, এভাবে অযৌক্তিক জরিমানা ও চাপ সৃষ্টি চলতে থাকলে বহু পরিবার চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়বে। পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় বাজার, নির্মাণ শিল্প ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও। দ্রুত পদক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠন।

Latest