Skip to content

ঘাটাল থেকে ইডেন—১৯ বছরের সুরজের স্বপ্নে জ্বলছে বিশ্বমঞ্চ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘাটালের মাটির গন্ধ আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়েই ইডেনের নেটে ঝড় তুলেছেন উনিশ বছরের সুরজ সানকি। তাঁর প্রতিটি ডেলিভারিতে যেন লুকিয়ে থাকে লড়াই, জেদ আর বড় হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। ছোট শহর থেকে উঠে আসা এই কিশোর এখন বিশ্বক্রিকেটের তারকাদের সামনে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনায় যখন মুখর Eden Gardens, ঠিক সেই মঞ্চেই নেটে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন সুরজ। বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের প্রথম সেমিফাইনালের আগে প্রোটিয়া শিবিরে নেট বোলার হিসেবে সুযোগ পান তিনি। তার আগে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড ও ইতালির ব্যাটারদের সামনেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।

ক্যারিবিয়ান বিগহিটার Romario Shepherd তাঁর লাইন-লেন্থ বুঝতে না পেরে নেটে পরাস্ত হয়েছেন। ভারতের আগ্রাসী ব্যাটার Ishan Kishan-ও সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন সুরজের গতি ও মুভমেন্ট। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ Daren Sammy প্রকাশ্যে তাঁর বোলিংয়ের প্রশংসা করেন এবং স্নেহভরে পিঠ চাপড়ে দেন।সুরজের ক্রিকেট আদর্শ ভারতের তারকা অলরাউন্ডার Hardik Pandya। বল ও ব্যাট—দুই বিভাগেই পারদর্শী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বোলিং অ্যাকশন ও আত্মবিশ্বাসে অনেকটাই পাণ্ডিয়ার ছায়া মেলে। বন্ধুমহলে তাই তাঁর নামই হয়ে গেছে ‘পাণ্ডিয়া’।

হাইকোর্ট ক্লাবের এই তরুণ ক্রিকেটারের লক্ষ্য এখন আরও উঁচুতে ওড়া। বাবা সুশান্ত সানকি চান, ছেলে একদিন বাংলার জার্সি পরে মাঠে নামুক, তারপর দেশের নীল জার্সিতে দেশকে গর্বিত করুক। বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি ও কোচ হীরক সেনগুপ্ত-র তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছেন সুরজ। তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও স্নেহই তাঁর বড় শক্তি। সুশান্ত সানকির কথায়, কলকাতায় বহু জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও মনোজ ও হীরক তাঁকে আপন করে নিয়েছেন। আজ সুরজের ক্রিকেটযাত্রায় তাঁরাই প্রধান পথপ্রদর্শক।ঘাটালের এক কিশোরের স্বপ্ন এখন ইডেনের আলোয় ঝলমল করছে। বাকিটা সময়ই বলবে—এই আগুন একদিন কি সত্যিই আন্তর্জাতিক মঞ্চে জ্বলে উঠবে?

Latest