ঘাটাল , অভিজিৎ সাহা : বহু প্রতীক্ষার অবসান। শুক্রবার দেব ও রুক্মিণী মৈত্রের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল ঘাটাল উৎসব ও শিশু মেলা। সকাল থেকেই উৎসবের রঙে রাঙা ঘাটাল শহর। ১৬ই জানুয়ারী শুক্রবার প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি, বিকেল পাঁচটায় হয় মেলার উদ্বোধন।মেলার মঞ্চে উঠে স্বাভাবিকভাবেই আসে আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ। ঘাটালের সাংসদ দেব বলেন,“যদি মনে করেন আমাদের দল ভালো কাজ করেছে, উন্নয়ন করেছে, তবেই ভোট দেবেন। কাউকে কোনওদিন জোর করিনি।”রাজনৈতিক বার্তায় সংযত থাকলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাস।ঘাটাল মেলার সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সাংসদ। দেব বলেন,“ঘাটাল মেলা শুধু একটা মেলা নয়, এটা একটা আবেগ। ২০১৪ সাল থেকে ঘাটালের সঙ্গে আমার সম্পর্ক।

রুক্মিণী কোনওদিন ঘাটালে আসেনি, আজ প্রথম এল।”উল্লেখ্য, গত বছর মেলা কমিটি গঠন ঘিরে তীব্র অশান্তি তৈরি হয়েছিল ঘাটালে। মেলার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে সাংসদ অনুগামী ও প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ের অনুগামীদের সংঘর্ষে ঝরেছিল রক্ত। মেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল গোটা এলাকায়। যদিও শেষ পর্যন্ত দেবের উদ্যোগেই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং মেলা থেকে সরে দাঁড়ান শঙ্কর দোলই। তবে এ বছর সেই ধরনের কোনও অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে একাধিক নতুন চমকের আয়োজন করা হয়েছে।

এই প্রথম তৈরি হয়েছে থিমভিত্তিক খোলা মঞ্চ। শিশুদের জন্য থাকছে অস্থায়ী পার্ক। মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে দোতলা রেস্তরাঁ, তৈরি হয়েছে আলাদা সেলফি জ়োন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে থাকবে প্রতিদিনই উপচে পড়া ভিড়।নিরাপত্তার দিকেও কড়া নজর রেখেছে প্রশাসন। মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে বসানো হয়েছে প্রায় ১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইভটিজিং রুখতে সক্রিয় রয়েছে অ্যান্টি ইভটিজিং গ্রুপ। সাদা পোশাকে পুলিশ ও মহিলা পুলিশ কর্মীরা সাধারণ পোশাকে মেলা চত্বরে নজরদারি চালাবেন।

মেলার মঞ্চ থেকেই এদিন সাংসদ দেবের নামে প্রকাশিত একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করা হয়, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।ঘাটাল উৎসব ও শিশু মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। শান্তিপূর্ণভাবে মেলা সম্পন্ন করতেই তৎপর ঘাটাল থানার পুলিশ। উৎসব, আবেগ ও নিরাপত্তার মেলবন্ধনে এ বছরও রাজ্যের নজর কেড়েছে ঘাটাল।
