বন্যায় জলমগ্ন নারায়ণগড়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে জেলাশাসক—উঠল ক্ষতিপূরণ ও নদী সংস্কারের দাবি!
সেখ ওয়ারেশ আলী : ১৯ আগস্ট, বুধবার , বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নারায়ণগড়ের একাধিক জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। বুধবার নারায়ণগড় ব্লকের গোপীনাথপুর, দুরিয়া, পাহাড়পুর-সহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনের সময় জলবন্দি মানুষের দুর্ভোগ, কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি এবং জলনিকাশির পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।জেলাশাসকের সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি, এসডিও জ্যোতি ঘোষ, বিডিও তাপস বিশ্বাস,জেলা সভাপতি সমিত মন্ডল-সহ জেলা ও ব্লক প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।

এদিন প্রশাসনের কাছে নিজেদের দাবিও তুলে ধরেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বন্যার জলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। তাই ক্ষতিগ্রস্ত জমির সরকারি সমীক্ষা করে দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।শুধু তা-ই নয়, প্রতিবছর বর্ষায় একইভাবে জলমগ্ন হওয়ার সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে নদী সংস্কার ও উন্নত জলনিকাশির ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর পাশাপাশি, নারায়ণগড় ব্লকের ১৪ নম্বর খুরশি অঞ্চলের ২১৮ নম্বর দুরিয়া বুথে VB-G RAM G প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও সূচনা করা হয়। প্রশাসনিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বার্তাও তুলে ধরা হয়।

বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর জেলাশাসক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে বলে জানান। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।বন্যার তাৎক্ষণিক মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জলনিকাশি ও নদী সংস্কারের দাবি সামনে আসায় নারায়ণগড়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে এলাকাবাসী।