পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : সোমবার , ১০ই মার্চ দুপুরে প্লাস্টিকের বল মনে করে একটি বস্তু ছুড়ে ফেলতেই হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণ। ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন এক যুবক। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গুড়গুড়ি পাল থানার অন্তর্গত নেপুরা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ধানের জমি থেকে একটি বলের মতো দেখতে বস্তু কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে মুক্তি মাঝির ছেলে। সেটিকে প্লাস্টিকের বল ভেবে বাড়িতেই রাখা হয়েছিল।

সোমবার ১০ই মার্চ দুপুরে মুক্তি মাঝির সম্বন্ধী লক্ষীকান্ত মাঝি (২১) ওই বস্তুটি ফেলে দিতে গেলে আচমকাই তা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় লক্ষীকান্ত মাঝি গুরুতর জখম হন। জানা গেছে, বিস্ফোরণে তাঁর হাতের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, যদি মাঠে-ঘাটে এভাবে বিস্ফোরক পড়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় কোথাও বোম মজুত করা হয়েছে কিনা, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকেই।ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।

বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে শাসকদল বোম মজুত করছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান সুখেন্দু জানা। তাঁর দাবি, সম্প্রতি এলাকায় কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময়ের কোনও অবিস্ফোরিত বাজি বা বোম থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গুড়গুড়ি পাল থানার পুলিশ। বিস্ফোরণের উৎস কী এবং কোথা থেকে ওই বস্তুটি এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।