Skip to content

ভেষজ আবিরে বসন্ত বরণ! পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কচিকাঁচাদের হাতে পরিবেশবান্ধব দোলের প্রস্তুতি!

1 min read

পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : মেদিনীপুর সদর ব্লকের পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসন্তের আগমনী সুরে ফের ধরা পড়ল এক অনন্য উদ্যোগ। প্রকৃতির রঙে রাঙা এই ঋতুকে স্বাগত জানাতে বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের হাতেই তৈরি করল সম্পূর্ণ ভেষজ আবির। আনন্দের সঙ্গে শিক্ষার এমন মেলবন্ধন নজর কাড়ল সকলের। গাঁদা ফুল, বিট, গাজর, কাঁচা হলুদ, ধনেপাতা এবং পাকা পুঁইয়ের বীজ—এই সব প্রাকৃতিক উপাদান থেকে রং বের করে তার সঙ্গে খাওয়ার অ্যারারুট মিশিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে আবির।

ফলে ত্বকের কোনও ক্ষতির আশঙ্কা নেই, পরিবেশের উপরও পড়ে না নেতিবাচক প্রভাব। শিশুদের কাছে এটি শুধু উৎসবের প্রস্তুতি নয়, বরং হাতে-কলমে শেখার এক বাস্তব পাঠ। বসন্ত মানেই প্রকৃতির নবজাগরণ। শীতের অবসান ঘটিয়ে চারিদিকে যখন ফুলে-ফলে সেজে ওঠে প্রকৃতি, তখন মানুষের মনেও লাগে রঙের ছোঁয়া। বাংলায় দোলযাত্রা সেই আনন্দেরই প্রতীক—যেখানে রঙ মেখে ভুলে যাওয়া যায় ভেদাভেদ, ছড়িয়ে পড়ে সম্প্রীতির বার্তা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৌম্য সুন্দর মহাপাত্র জানান, হাতে-কলমে শিক্ষা শিশুমনের ভিতকে আরও দৃঢ় করে। বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের সচেতনতা ও চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে।

তাঁর কথায়, উৎসবের আনন্দের সঙ্গে যদি পরিবেশ সচেতনতার বার্তা জুড়ে দেওয়া যায়, তবে সেটাই প্রকৃত শিক্ষা। নিজেদের হাতে তৈরি আবির দিয়ে দোল খেলবে—এই উত্তেজনায় উচ্ছ্বসিত কচিকাঁচারা। তাদের হাসিমুখেই ধরা পড়েছে নির্মল আনন্দ। প্রতিবছর এই উদ্যোগ যেন তাদের কাছে হয়ে ওঠে এক বিশেষ স্মৃতি, যেখানে শেখা আর আনন্দ মিশে যায় একসূত্রে। সব মিলিয়ে, আনন্দ, শিক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বসন্ত উৎসবের প্রস্তুতি। এই বার্তা স্পষ্ট—উৎসব মানেই শুধু রঙের উচ্ছ্বাস নয়, দায়বদ্ধতা ও সচেতনতার রঙেও নিজেকে রাঙানো।

Latest