অভিজিৎ সাহা : রোগী দেখতে বাড়িতে যেতে অস্বীকার করায় পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকের ভাদুতলা এলাকায় এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের এক অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আক্রান্ত চিকিৎসক শালবনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্ণগড় অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি কাঞ্চন চক্রবর্তীর এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে সোমবার সকালে চিকিৎসক নিখিলরঞ্জন ঘোষের চেম্বারে যান পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখার অনুরোধ নাকচ করলে পরে অভিযুক্ত নেতা মত্ত অবস্থায় সেখানে হাজির হন এবং তাঁর উপর চড়াও হন। চিকিৎসকের অভিযোগ, চেম্বারের ভিতরেই কলার ধরে মারধর করা হয় এবং টেনেহিঁচড়ে রোগীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।আক্রান্ত চিকিৎসক নিখিলরঞ্জন ঘোষ বলেন, “কোভিডের পর থেকে আমি চেম্বারের বাইরে রোগী দেখতে যাই না। শরীরও ভাল নেই। তা সত্ত্বেও মত্ত অবস্থায় এসে আমার উপর হামলা করা হয়।” তাঁর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন রোগী আগেই মারা গিয়েছেন। পরে মৃতদেহ তাঁর বাড়ির সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কাঞ্চন চক্রবর্তী অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “কোনও মারধর হয়নি। আমরা বারবার ডাকতে গিয়েও ওঁকে পাইনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”ঘটনার জেরে রাতে অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসককে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা জানান, “এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”পুলিশ সূত্রে খবর, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।