নিজস্ব সংবাদদাতা: জেলা হোক বা শহর—প্রায় সর্বত্রই LPG গ্যাসের তীব্র সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। বহু জায়গায় অনলাইনে গ্যাস বুকিং কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। শুধু তাই নয়, গ্যাস অফিসে সরাসরি গিয়ে সমস্যার কথা জানালেও মিলছে না কোনও স্পষ্ট সমাধান। ফলে সকাল থেকেই বিভিন্ন গ্যাস এজেন্সির সামনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন, উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের ভিড়। এই পরিস্থিতির মাঝেই আরও এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে—বেআইনিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে কালোবাজারি করার চেষ্টা। প্রশাসনের দাবি, গ্যাসের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে যাতে কালোবাজারি না বাড়ে, সেই জন্যই ইতিমধ্যেই কড়া নজরদারি শুরু করা হয়েছে।কেন্দ্র সরকারও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। LPG-র কালোবাজারি ঠেকাতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫-এর আওতায় কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করে কেন্দ্র জানিয়েছে, কোথায় এবং কোন ক্ষেত্রে কত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হবে, তার নির্দিষ্ট নীতি ঠিক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধজনিত কারণে LNG সরবরাহে প্রভাব পড়ায় LPG, CNG এবং PNG গ্যাসের বণ্টনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস সরবরাহ, LPG এবং পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত CNG। দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে সারের কারখানাগুলিকে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অগ্রাধিকারে রয়েছে চা-সহ অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্র, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। গত ছয় মাসের গ্যাস ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই এই সরবরাহ নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।এই ইস্যুতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গতকাল বিদেশমন্ত্রী ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।তবে সংকটের মাঝেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে পুলিশের অভিযানে গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজারির একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ডেলিভারি কর্মীদের মধ্যেও। বাঁকুড়ার মাচানতলা এলাকায় গ্যাস ডেলিভারি বয়দের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় গ্রাহকদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।সব মিলিয়ে LPG সংকটকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসন নজরদারি বাড়ালেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।