Skip to content

কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর!

নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে এদিন দেখা গেল একেবারে ভিন্ন আয়োজন। দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছিল বিশাল মঞ্চ। প্রায় ১২০ ফুট চওড়া এই মঞ্চের মূল অংশ ছিল প্রায় ৮০ ফুট বিস্তৃত। সেই মঞ্চ থেকেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।এদিন ব্রিগেডের চেনা ছবিটাই যেন বদলে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সভার মূল মঞ্চটি সাজানো হয়েছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। মঞ্চের দু’পাশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন রূপ—বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা শিল্প থেকে শুরু করে বাউল ও কীর্তনের মতো বাংলার নিজস্ব লোকসংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে নামার পর সোজা সভামঞ্চে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী।

মঞ্চে তাঁর একপাশে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্য পাশে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে উপস্থিত বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এর পর শমীক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতি তুলে দেন।

পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী তাঁর হাতে মা দুর্গার একটি মূর্তিও তুলে দেন।সম্প্রতি বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির তরফে “বাংলা অস্মিতা” বা বাঙালি পরিচয়ের প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে। ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থার খবর সামনে আসার পর থেকেই এই ইস্যুকে সামনে রেখে বঙ্গ বিজেপি বাঙালিয়ানা তুলে ধরতে আরও সক্রিয় হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।তবে একই সঙ্গে বিজেপির কয়েকজন নেতার কিছু মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

কখনও সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে “বঙ্কিম দা” বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম ভুল উচ্চারণ করা, আবার এক নেতার মুখে মাতঙ্গিনী হাজরা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য—এই সব বিষয় নিয়েও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বাংলার মনীষীদের এভাবে আর কতদিন অসম্মান করা হবে।তবে এসব বিতর্কের মাঝেও বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এদিনের ব্রিগেড সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আবহেই সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারে বিজেপিই। তাঁর কথায়, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Latest