অভিজিৎ সাহা: ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে নতুন দাবি সামনে আনল পুণে পুলিশ। মহারাষ্ট্রের পুণে শহরে পুরুলিয়ার বরাবাজারের বাসিন্দা সুখেন মাহাতো-র খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে বলা হয়েছে, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে নয়, বরং মদ্যপ অবস্থায় বচসা থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় ইতিমধ্যেই আমিন সওকত শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভিযোগ ছিল, বাংলায় কথা বলার কারণেই সহকর্মীদের হাতে খুন হতে হয়েছে সুখেনকে। তবে এফআইআরের বয়ানে সেই অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে তদন্তকারী সংস্থা।কী বলছে এফআইআর মৃতের ভাই তুলসীরাম মাহাতো-র সম্মতিক্রমেই এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। শিকরাপুর থানায় মারাঠি ভাষায় লেখা অভিযোগ হিন্দিতে অনুবাদ করে শোনানো হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। তুলসীরামের বয়ান অনুযায়ী, ৯ তারিখ বিকেলে কাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সুখেন। রাতে বারবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরদিন সুপারভাইজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে একটি হোটেলের পিছন থেকে উদ্ধার হওয়া দেহ শনাক্ত করেন তিনি। কারা বা কীভাবে খুন করেছে, সে বিষয়ে তখন তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না বলেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত মহারাষ্ট্রে পরিযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার বরাবাজারে যাওয়ার কথা রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। দেহ উদ্ধার ও তদন্ত: গত মঙ্গলবার পুণে শহরের উপকণ্ঠে শিকরাপুর থানার একটি হোটেলের পিছন থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সুখেন মাহাতোর দেহ। ঘটনার পর থেকেই ভাষাগত বিদ্বেষ না কি ব্যক্তিগত বচসা—কোনটি খুনের আসল কারণ, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগোচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসতে এখন তদন্তের দিকেই নজর সকলের।