মেদিনীপুরের হোটেল-শপিংমলে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, একাধিক অনিয়মে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী!
অভিজিৎ সাহা : মেদিনীপুর শহরের একাধিক হোটেল, লজ ও শপিংমলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এল। শুক্রবার শহরের বিভিন্ন হোটেল ও শপিংমলে আচমকা পরিদর্শনে যান পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক গাফিলতি নজরে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।পরিদর্শনের পর মন্ত্রীর অভিযোগ, কোথাও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, আবার কোথাও জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য নির্ধারিত ‘ফায়ার এক্সিট’ও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বালাজি হোটেল পরিদর্শনের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, হোটেলটির ফায়ার লাইসেন্স নেই। পাশাপাশি, ফায়ার এক্সিট সিমেন্ট ও বালির বস্তা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মন্ত্রীর বক্তব্য, হোটেলের উপরের তলায় আগুন লাগলে সেখানে থাকা মানুষজনের নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ কার্যত থাকবে না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলাশাসককে সংশ্লিষ্ট হোটেলটি সিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেদিনীপুরের রেশমা লজের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ৮০টি ঘর থাকা ওই লজে মাত্র একটি প্রবেশপথ রয়েছে। লজের পিছনে থাকা গোডাউনের শাটারও বন্ধ এবং তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে আগুন বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে বিপুল সংখ্যক আবাসিক কীভাবে দ্রুত নিরাপদে বেরোবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।অগ্নিনিরাপত্তার গাফিলতির প্রসঙ্গে বীরভূমের রামপুরহাটের অগ্নিকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন অগ্নিমিত্রা।

তাঁর আশঙ্কা, নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে চলা হলে ছোটখাটো ত্রুটিই বড় দুর্ঘটনার রূপ নিতে পারে এবং বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।এদিন হকার উচ্ছেদ ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। হোটেল, লজ কিংবা শপিংমলে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম ভাঙা হলে প্রয়োজনে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অগ্নিনিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আগের সরকারের আমলের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, অতীতে অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে বিভিন্ন ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর মেদিনীপুর শহরের হোটেল, লজ ও শপিংমলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং শহরের অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয় কি না, সেদিকেই নজর শহরবাসীর।