নিজস্ব সংবাদদাতা: আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম আবারও দেখল ক্রিকেটের চরম নাটক। ১৯ নভেম্বর ২০২৩–এর সেই বেদনাময় স্মৃতি এখনও টাটকা—যেদিন প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়ার সামনে থমকে গিয়েছিল ভারতের অশ্বমেধের ঘোড়া। আর এবার, একই মঞ্চে জন্ম নিল আরেক শ্বাসরুদ্ধকর গল্প। পর পর দু’টি সুপার ওভার, অবিশ্বাস্য লড়াই—শেষ হাসি দক্ষিণ আফ্রিকার হলেও, হৃদয় জিতে নিলেন আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

টসে জিতে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শুরুতেই অধিনায়ক এইডেন মার্করাম আউট হয়ে গেলেও, রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি’ককের জোড়া অর্ধশতরানে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রোটিয়ারা। তবে ‘বেবি এবি’ ডিওয়াল্ড ব্রেভিস আজ নজর কাড়তে পারেননি—১৯ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান। আফগানিস্তানের হয়ে দুরন্ত বোলিং করেন রশিদ খান, একই ওভারে দুই উইকেট নেন তিনি। আজমাতউল্লাহ ওমরজাই শিকার করেন তিনটি উইকেট।

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন প্রাক্তন নাইট তারকা রহমানউল্লাহ গুরবাজ। একার কাঁধে দলকে টেনে নিয়ে যান তিনি। মাত্র ৪২ বলে ৮৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন গুরবাজ। কিন্তু শেষ দিকে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। লুঙ্গি এনগিডির তিন উইকেটে ম্যাচ জমে ওঠে চরমে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৩ রান—দুই বল বাকি থাকতেই অলআউট আফগানিস্তান, ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। জবাবে শেষ বলে ছক্কা মেরে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা—আবার সুপার ওভার! দ্বিতীয় সুপার ওভারে ২৩ রান তোলে প্রোটিয়ারা। জবাবে একসময় আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৪ বলে ২৪ রান। অবিশ্বাস্যভাবে প্রথম তিন বলেই তিনটি ছক্কা হাঁকান গুরবাজ। কিন্তু শেষ বলে ক্যাচ আউট—স্বপ্ন ভাঙে আফগানিস্তানের, জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ক্রিকেট যে সত্যিই এক বলের খেলা—আহমেদাবাদ আবারও তার প্রমাণ দিল। পরপর দু’টি সুপার ওভার, একাধিক নাটকীয় মুহূর্ত, আর এক অসমাপ্ত মহাকাব্য—গুরবাজের দুরন্ত ইনিংস হয়তো দলকে জেতাতে পারেনি, কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে তিনি আজ ট্র্যাজিক হিরো। সুপার এইটের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর আহমেদাবাদ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—ক্রিকেটের নাটক এখানেই সবচেয়ে বেশি রঙিন, সবচেয়ে বেশি নির্মম।
