Skip to content

স্কালোনির কৌশল, ডি পলের শিল্প আর মেসির ইতিহাস

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক যেমন ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বসিত করেছে, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রদ্রিগো ডি পল। কারণ, মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল এই পরিশ্রমী মিডফিল্ডারের। অনেকেই মজা করে ডি পলকে ‘মেসির বডিগার্ড’ বলে থাকেন। কিন্তু মাঠে তাঁদের বোঝাপড়া যে কতটা গভীর এবং কার্যকর, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো এই ম্যাচে। মেসির প্রথম গোলের আগে ডি পলের দেওয়া অসাধারণ পাস ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। চারজন প্রতিপক্ষ ফুটবলারের মাঝখান দিয়ে সাহসী ও নিখুঁত সেই পাস পৌঁছে যায় মেসির পায়ে। বাকিটা ইতিহাস— সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। একসময় আর্জেন্টিনা দলের প্রায় সমস্ত দায়িত্বই কাঁধে তুলে নিতে হতো মেসিকে। মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করা থেকে শুরু করে গোল করা— সবকিছুতেই ভরসা ছিল তাঁর উপর। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা দল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন মেসির চারপাশে এমন ফুটবলারদের উপস্থিতি রয়েছে, যারা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম।এনজো-লিসান্দ্র ছাড়াও আর সেই তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম রদ্রিগো ডি পল।

ম্যাচে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত দক্ষতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধে ডান প্রান্তে আক্রমণ গড়ে তুলতে সমস্যায় পড়ছিল দল। ফলে মেসিকে বারবার ডানদিকে সরে এসে বল নিতে হচ্ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নাহুয়েল মোলিনাকে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেন স্কালোনি। একইভাবে থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে নিকো গঞ্জালেসকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে গঞ্জালেসই মেসির একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন। জুলিয়ান আলভারেজও নিজের উপস্থিতি জানান দেন। মেসির দ্বিতীয় গোলের বিল্ড-আপে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। পুরো ম্যাচে স্কালোনির বদলি খেলোয়াড় ব্যবহারের কৌশল আবারও প্রমাণ করে কেন তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ও বিচক্ষণ কোচ বলা হয়।

অন্যদিকে ডি পলের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানও ছিল দুর্দান্ত। মেসির করা প্রথম গোলটিতে দুর্দান্ত পাস বাড়িয়েছিলেন। ম্যাচে তিনি ৬৮ বার বল স্পর্শ করেন, ৯২ শতাংশ পাস সফল করেন এবং ২৩ বার বল নিয়ে এগিয়ে যান। পাশাপাশি ৭টি বল পুনরুদ্ধার, ৬টি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাত্মক অবদান এবং ৫টি ডুয়েলে জয় তুলে নিয়ে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। ড্রিবলেও ছিলেন শতভাগ সফল। মিডফিল্ডে খেললেও ডি পল কার্যত ডান প্রান্তের পুরো এলাকাটাই সামলে দেন। তাঁর নিরলস পরিশ্রম, দৌড় এবং অবস্থানগত সচেতনতাই মেসিকে ফ্রি-রোলে খেলতে সাহায্য করে। ফলে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক আরও বেশি করে গোলের সুযোগ তৈরি করতে এবং আক্রমণে মনোনিবেশ করতে পারেন। অনেক সমালোচকই মনে করেছিলেন ক্লাব ফুটবলে পরিবর্তনের পর ডি পলের ধার কমে যেতে পারে। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ তিনি।

Latest