দ্বিতীয় সন্তান ছেলে, তাই কন্যার উপর নির্যাতন! শেষমেশ ৮ বছরের শিশুকে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে

দ্বিতীয় সন্তান ছেলে, তাই কন্যার উপর নির্যাতন! শেষমেশ ৮ বছরের শিশুকে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
নিজস্ব সংবাদদাতা :হাওড়ার ডোমজুড়ে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। আট বছরের এক কন্যাশিশুকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বাবার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে ছেলে জন্মানোর পর থেকেই প্রথম সন্তান কন্যাকে অপছন্দ করতে শুরু করেছিলেন অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পর অবশেষে রাগের বশে মেয়েকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডোমজুড়ের সলপের তেঁতুলকুলি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত শিশুর নাম একতা মণ্ডল (৮)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর অভিযুক্ত বাবা অনুপ মণ্ডল মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করার পর নিজেই হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের জানান, মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু মাত্র আট বছরের একটি শিশুর আত্মহত্যার দাবি ঘিরে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেয়।খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এদিকে হাসপাতালে উপস্থিত হন শিশুটির মা ঈশিকা মণ্ডল এবং তার পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুপ মণ্ডলকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে ডোমজুড় থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। সেই কারণে ঈশিকা মণ্ডল ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকেই সকালে একতা স্কুলে যায়। অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর অভিযুক্ত বাবা তাকে নিয়ে গিয়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটান।শিশুটির মামা জিৎ পাঁজার অভিযোগ, দ্বিতীয় সন্তান ছেলে হওয়ার পর থেকেই অনুপ মণ্ডল প্রথম সন্তান একতার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। প্রায়ই তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের দাবি, সেই নির্যাতনেরই চরম পরিণতি এই হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।