অরিন্দম চক্রবর্তী : খসড়া সংশোধন প্রক্রিয়া (এস আই আর) শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংশোধিত প্রথম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে খড়গপুরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তালিকায় একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ২ মার্চ সোমবার, খড়গপুরের এসডিও অফিসের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করে সিপিএমের খড়গপুর শহর পার্টি।বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সবুজ ঘোড়াই, জেলা কমিটির সদস্য অমিতাভ দাস, মধুসূদন রায়, স্মৃতিকণা দেবনাথ, কামরুজ্জামান, সিটু নেতা দিলীপ দে ও যুব নেতা সৈয়দ সাদ্দাম আলি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর জয়দীপ বোস, অসিত সরকার, হরেকৃষ্ণ দেবনাথ ও গুলাম আশিক প্রমুখ।

বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় একদিকে মৃত ব্যক্তিদের নাম রয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে বহু জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একাধিক ভোটারের নামের পাশে ‘আন্ডার এন্ড জুডিকেশন’ সিল মারার অভিযোগও ওঠে, যার অর্থ তাঁদের বিচারাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই ঘটনাকে তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে দাবি করেন।
সিপিএমের তরফে দাবি জানানো হয়—
- খসড়া ভোটার তালিকাকেই চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
- মৃত ব্যক্তিদের নাম অবিলম্বে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।
- ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্যে ত্রুটি ধরা যাবে না।
- নতুন তালিকায় নাম ও বয়স সংক্রান্ত ভুল সংশোধনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
এই সব দাবিকে সামনে রেখে এসডিও-র কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেন সিপিএম নেতা সবুজ ঘোড়াই, অমিতাভ দাস, কামরুজ্জামান ও মধুসূদন রায়।

খড়গপুরের এসডিও সুরভী সিংলার কাছে প্রতিনিধিদল স্পষ্টভাবে জানায়, পরবর্তী অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় যেন কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায় এবং সম্পূর্ণ নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা হয়—সেই লক্ষ্যে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়গপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই প্রশাসনের ভূমিকা এখন নজরে। আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নেবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহল।