ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কলকাতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে মাঠে নামছে পুলিশ প্রশাসন। শহরের আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে এবার রাতের টহলে বিশেষ গুরুত্ব দিল কলকাতা পুলিশ। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ শহরের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডিসি-সহ সিনিয়র আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—রাত ১০টা থেকে ভোর ২টো পর্যন্ত রাস্তায় থেকে এলাকা পরিদর্শন করতে হবে।বৃহস্পতিবার লালবাজারে শহরের শীর্ষ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নির্দেশ দেন সিপি। বৈঠকে তিনি জানান, শুধুমাত্র দপ্তরে বসে নয়, সিনিয়র অফিসারদের আরও বেশি করে প্রকাশ্যে এসে মাঠপর্যায়ে নজরদারি চালাতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনও ঘটনা, অভিযোগ বা উত্তেজনার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এই আধিকারিকদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, নাকা তল্লাশি, রাতের টহল এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারির সময়ও যুগ্ম সিপি ও ডিসি পদমর্যাদার অফিসারদের উপস্থিত থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এলাকায় টহল এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনার দায়িত্বও তাঁদের উপরই থাকবে। ভোটের আগে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পকেটে নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। কলকাতায় ভোট রয়েছে ২৯ এপ্রিল, আর ফল ঘোষণা ৪ মে। এই সময় রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ফলে কোনও রকম গাফিলতি যাতে না থাকে, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিপি।উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতায় একাধিক রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে ভবানীপুরে বিরোধী শিবিরের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর কমিশনের তরফে কড়া বার্তা গিয়েছিল কলকাতা পুলিশের কাছে। তার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়েছেন পুলিশ কমিশনার।এদিকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-ও বৃহস্পতিবার পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পদযাত্রার সময় যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ভোটের আগে শহরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কলকাতা পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়েছে—ভয়মুক্ত, প্রলোভনমুক্ত পরিবেশে ভোট করানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাপ্পা, বুথ জ্যাম বা ভোটে বাধা দেওয়ার যে কোনও চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। কেউ ভোট দিতে বাধার মুখে পড়লে অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করার আবেদনও জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহিত করতে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি।