Skip to content

মেদিনীপুরে শুরু তৃতীয় “সৃষ্টিশ্রী মেলা” — স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাত ধরে লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য

1 min read

পশ্চিম মেদিনীপুর, সেখ ওয়ারেশ আলী: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে এবং পশ্চিম মেদিনীপুর আনন্দধারা প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে শুরু হলো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হস্তশিল্পের তৃতীয় মেদিনীপুর আঞ্চলিক “সৃষ্টিশ্রী মেলা”। সোমবার, ১৯ জানুয়ারি মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হল প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও পায়রা উড়িয়ে শান্তির বার্তা দিয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মেলা। জেলা মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট ও আনন্দধারা জেলা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের শিল্পকর্মের এক অনন্য প্রদর্শনী উঠে এসেছে।

মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী ডাঃ মানস রঞ্জন ভুঁইঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ডালি, মন্ত্রী শিউলি সাহা, বিধায়ক সুজয় হাজরা, মেদিনীপুর পৌরসভার পৌরপিতা সৌমেন খান, উপ-পৌরপ্রধান মৌ রায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত জেলা মিশন অধিকর্তা গোবিন্দ হালদার, জেলা তথ্য আধিকারিক বরুণ মণ্ডল সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এবারের সৃষ্টিশ্রী মেলায় রাজ্যের ১৮টি জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তাঁদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প, খাদ্যসামগ্রী, বস্ত্র, শোপিস, গৃহসজ্জার সামগ্রী ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি রাজ্যের আরও ৭টি জেলার শিল্পীরা এখানে স্টল বসিয়েছেন। মেলায় রয়েছে ২০০টিরও বেশি স্টল, যা ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উদ্বোধনী ভাষণে মন্ত্রী ডাঃ মানস রঞ্জন ভুঁইঞা জানান, প্রথম বছরে সৃষ্টিশ্রী মেলায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল, দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ কোটি টাকায়। চলতি বছরে জেলা প্রশাসনের লক্ষ্য ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য, যা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করা ও মহিলাদের আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টিশ্রী মেলা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা এবারও স্পষ্ট। মেদিনীপুরের এই মেলা শুধু কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং স্বনির্ভর বাংলার এক জীবন্ত উদাহরণ।

Latest