নিজস্ব সংবাদদাতা : “বিপদে যে পাশে থাকে, সেই প্রকৃত বন্ধু”—এই প্রবাদই যেন এখন বাস্তবে টের পাচ্ছেন Donald Trump। হরমুজ প্রণালীর জট কাটাতে ‘বন্ধু’ দেশগুলির সাহায্য চেয়েও কার্যত নিরাশ হয়েছেন তিনি। আর তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ‘অভিমানী’ বার্তা—“আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ, আমাদের কারও প্রয়োজন নেই।”বর্তমানে United States, Israel-এর সঙ্গে যৌথভাবে Iran-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এর পালটা হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে বড় চাল দিয়ে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে Strait of Hormuz। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী, জ্বালানি সংকটে টান পড়েছে বহু দেশের অর্থনীতিতে—চাপে রয়েছে আমেরিকাও।এই সঙ্কট মোকাবিলায় ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশ ও অন্যান্য মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। এমনকি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্ভাব্য ‘বন্ধু’ দেশগুলির তালিকাও প্রকাশ করেন। কিন্তু তাঁর এই প্রস্তাবে কার্যত কেউই সাড়া দেয়নি।এরপরই সুর চড়ান ট্রাম্প।

তাঁর বক্তব্য, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ, আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মিত্র দেশগুলির মনোভাব যাচাই করতেই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম ওরা কী করে। বহুদিন ধরেই বলছি, প্রয়োজনে ওরা পাশে থাকবে না।”ট্রাম্প আরও মনে করিয়ে দেন, বহু বছর ধরে এই দেশগুলিকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে আসছে আমেরিকা। তবুও সংকটের সময়ে তাদের নীরবতা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগেই তিনি China, France, Japan, South Korea এবং United Kingdom-সহ একাধিক দেশের নাম উল্লেখ করে হরমুজে রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই সেই ডাকে সাড়া দেয়নি।অন্যদিকে India স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ইস্যুতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। বরং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই ভারতের দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে গিয়েছে, আর বাকি জাহাজগুলিকে নিরাপদে পার করানোর চেষ্টা চলছে।সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই টানাপোড়েনে ট্রাম্প যেন অনেকটাই একা। ‘বন্ধু’ দেশগুলির নীরবতা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।