ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭০ হাজার পরিবার পাবে ‘পুষ্টি কিট’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!
নিজস্ব সংবাদদাতা : জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনজাতিভুক্ত পরিবারগুলির পুষ্টি ও খাদ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের কালাঝরিয়ায় আয়োজিত প্রশাসনিক সভা থেকে প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের জন্য ‘পুষ্টি কিট’ প্রকল্পের সূচনা করা হয়। এই প্রকল্পে ঝাড়গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে চাল, ডাল, তেল, সয়াবিন, রাগি-সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য বাজেটে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পুজোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হল।উপভোক্তারা যাতে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় বায়োমেট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। সাধারণ রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবেই এই পুষ্টি কিট দেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে জঙ্গলমহলের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সহায়তা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।পুষ্টি প্রকল্পের পাশাপাশি এদিন শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করা হয়। পিছিয়ে পড়া জনজাতির পড়ুয়াদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে ৮০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এই খাতে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, ঝাড়গ্রামের ৮৮ হাজার ৩৬ জন ছাত্রছাত্রী ইতিমধ্যেই এই সুবিধা পেয়েছে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।এছাড়াও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কালভার্ট নির্মাণ, সৌরবাতি বসানো এবং কমিউনিটি হল তৈরির মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ঝাড়গ্রামে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।সব মিলিয়ে পুষ্টি, শিক্ষা ও পরিকাঠামো—এই তিন ক্ষেত্রকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনজাতিভুক্ত পরিবারগুলির উন্নয়নে একাধিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হয় এদিনের প্রশাসনিক সভা থেকে।