Skip to content

ভোটের সময় কি আপনার গাড়ি-বাড়ি ‘নিয়ে নিতে’ পারে প্রশাসন? জানুন আসল আইন ও নিয়ম!

অভিজিৎ সাহা: ভোট এলেই বাড়তি নিরাপত্তা, কড়া প্রশাসনিক প্রস্তুতি আর বিশাল লজিস্টিক ব্যবস্থার চাপ তৈরি হয়। আর এই চাপ সামলাতেই অনেক সময় সাধারণ মানুষের গাড়ি, বাড়ি বা জমি ব্যবহার করতে দেখা যায় প্রশাসনকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এভাবে কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেওয়ার অধিকার আছে নির্বাচন কমিশনের? সোজা উত্তর—হ্যাঁ, আছে। তবে তা সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই।কোন আইনে এই ক্ষমতা? জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ১৬০ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রয়োজন মেটাতে সরকার বা নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে কোনও বাড়ি, জমি বা যানবাহন অধিগ্রহণ করতে পারে। কেন লাগে আপনার বাড়ি বা জমি? ভোটের সময় বহু জায়গায় অস্থায়ী বুথ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি ব্যালট বাক্স বা ইভিএম নিরাপদে রাখার জন্যও জায়গার প্রয়োজন পড়ে। সেই কারণেই ব্যক্তিগত সম্পত্তি—বাড়ি বা জমিও—ব্যবহার করা হতে পারে। গাড়ি কেন নেয় প্রশাসন? ভোটকর্মী, পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভোটের সরঞ্জাম পরিবহণের জন্য বিপুল সংখ্যক যানবাহনের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি, জলযান এমনকি পশুচালিত যানও অধিগ্রহণ করা যেতে পারে।

কী কী নিয়ম মানতে হবে?

  • মালিককে অবশ্যই লিখিত নির্দেশ (acquisition order) দিতে হবে
  • কতদিন ও কী কাজে সম্পত্তি ব্যবহার করা হবে, তা স্পষ্ট জানাতে হবে
  • নির্ধারিত সময়সীমা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যাবে না

সব সম্পত্তি কি নেওয়া যায়?

না, কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট ছাড় রয়েছে—

  • অ্যাম্বুল্যান্স বা জরুরি পরিষেবার গাড়ি
  • চিকিৎসকদের ব্যবহৃত যানবাহন
  • আদালতের চিহ্নযুক্ত গাড়ি
  • সাধারণ ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়

প্রার্থীর গাড়ির ক্ষেত্রে কী নিয়ম? ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্রার্থী বা তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি অধিগ্রহণ করা যায় না।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধভাবে নোটিস জারি হলে তা অমান্য করা কঠিন। তবে নিয়ম ভাঙা হলে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের সময় আপনার সম্পত্তি ‘কেড়ে নেওয়া’ হয় না—বরং আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। তাই নোটিস পেলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে নিয়ম-কানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Latest