অভিজিৎ সাহা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যেই বাংলায় চলা এসআইআর পর্ব ও আসন্ন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, আর সেটিকেই রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে বঙ্গ-বিজেপি—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের দাবি। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তিন ধরণের পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে গেরুয়া শিবির। প্রথমত, যেসব বিধানসভা কেন্দ্রকে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করে, সেখানে কিছু ভোটারকে রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ তৈরি করার কৌশল নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।দ্বিতীয়ত, যদি কোনও বৈধ ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠে এবং তাতে শাসকদল উদ্যোগী ভূমিকা নেয়, তবে সেই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতে পারে বিজেপি। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই বলেছেন, ‘নো এসআইআর নো ভোট’, এবং ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি তৃণমূল কংগ্রেস চূড়ান্ত তালিকাকে মেনে নেয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে বিজেপি। যদিও রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে, এসআইআর পর্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানুষের অধিকারের প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় কিছুটা চাপ কমেছে বলেই শাসকদলের দাবি। নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত খসড়া তালিকায় কোনও অনুপ্রবেশকারীর উল্লেখ না থাকায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।