নিজস্ব সংবাদদাতা : ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ—ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও গৌরবময় দিন। এই দিনেই ব্রিটিশ সরকার লাহোর সেন্ট্রাল জেলে ফাঁসি দেয় তিন মহান বিপ্লবীকে—Bhagat Singh, Sukhdev Thapar এবং Shivaram Rajguru-কে।

মেদিনীপুর শহরে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এক গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। বীর বিপ্লবী শহীদ-এ-আজম Bhagat Singh-এর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে মেদিনীপুর শহরে গড়ে উঠল তাঁর ১৫ ফুট উচ্চতার পূর্ণাবয়ব মূর্তি।

Medinipur Bhagat Singh Foundation-এর উদ্যোগে তৈরি এই মূর্তির আবরণ উন্মোচন হয় সোমবার সন্ধ্যায়, বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে।মেদিনীপুর কলেজ রোডে স্থাপিত এই মূর্তিটির উদ্বোধন করেন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান Soumen Khan।

মূর্তিটি উৎসর্গ করা হয়েছে ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত উত্তম গোপের স্মৃতিতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সম্পাদক কুন্দন গোপ।দিনভর নানা কর্মসূচিতে মুখর ছিল শহর। অনুষ্ঠানে ভগৎ সিং-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ প্রতীপ তরফদার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. অসিত পন্ডা, নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. স্বপ্না ঘোড়াই, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী বিশ্বেশ্বর সরকার, চিকিৎসক ডাঃ সব্যসাচী রায়, ডাঃ অপূর্ব সামন্ত, ডাঃ ত্রিনাথ চ্যাটার্জি, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ সেন,ক্রীড়া সংগঠক শক্তি প্রসাদ মিত্র-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজকর্মীরা।জেলার উদীয়মান শিল্পী অলক কুমার দে-র হাতেই গড়ে উঠেছে এই মূর্তি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া।

বিকেলে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ নামে জাতীয় পতাকা হাতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর পরিক্রমা করে। সন্ধ্যায় দেশাত্মবোধক আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামকে কেন্দ্র করে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে কুইজ মাস্টার কৌশিক দাশগুপ্ত সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন। ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরও এদিন পুরস্কৃত করা হয়।সবশেষে, এই উদ্যোগকে সফল করে তোলার জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি কুন্দন গোপ। উপস্থিত অতিথিরাও ফাউন্ডেশনের এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।