কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে ‘তমালিকা সমগ্র’ প্রকাশ, হলদিয়ায় সাহিত্য-সংস্কৃতির তারকাসমাবেশ!

কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে ‘তমালিকা সমগ্র’ প্রকাশ, হলদিয়ায় সাহিত্য-সংস্কৃতির তারকাসমাবেশ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রয়াত কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট হলদিয়ার টাউনশিপে সিপিটি (বি.বি. ঘোষ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য স্মরণ ও গ্রন্থপ্রকাশ অনুষ্ঠান। আইকেয়ার শিক্ষা সংস্থা এবং সংবাদ সাপ্তাহিক আপনজন পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাট্য, সঙ্গীত, ক্রীড়া ও জনজীবনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, প্রকাশক সুধাংশু শেখর দে, সাহিত্যিক নলিনী বেরা, কবি শ্যামলকান্তি দাশ, ক্রীড়াবিদ বুলা চৌধুরী, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী, অভিনেতা সতীনাথ মুখোপাধ্যায়-সহ বহু বিশিষ্ট অতিথি।অনুষ্ঠানে প্রয়াত কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘গদ্য-পদ্য সমগ্র’-এর তিন খণ্ড। একইসঙ্গে প্রকাশিত হয় প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠের গান্ধী গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থও।সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখিকা তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে বলেন, “তসলিমা ভালো মেয়ে। ওঁর সঙ্গে আমার বহুদিনের পরিচয়। কলকাতায় তাঁকে আমি স্বাগত জানিয়েছিলাম। এখানে থাকতে পারলে ভালো হত। তবে তিনি কলকাতায় থাকতে চাননি।”প্রয়াত কবি তমালিকা পণ্ডাশেঠকে স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “তমালিকা আমাকে এমন আত্মীয়তার বন্ধনে বেঁধেছিলেন, সেই বন্ধন থেকে আমার মুক্তি নেই। তিনি জীবিত থাকাকালেও তাঁর অনুষ্ঠানে এসেছি। আজ তিনি না থাকলেও তাঁর স্মৃতি আমাকে আরও গভীরভাবে হলদিয়ায় টেনে আনে।”

অনুষ্ঠানজুড়ে কবির সাহিত্যকর্ম, জীবনদর্শন এবং বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। কবির স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমীরা।