৮০তম স্বাধীনতা দিবসে গৌরহাটিতে সমাজসেবার বার্তা, ২০টি পরিবারের আজীবন দায়িত্ব শ্রীজীব মাইতির!

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে গৌরহাটিতে সমাজসেবার বার্তা, ২০টি পরিবারের আজীবন দায়িত্ব শ্রীজীব মাইতির!

প্রেমচাঁদ ফৌজদার: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গৌরহাটি সেবায়ন সংঘের পরিচালনায় এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রীজীব মাইতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও সমাজসেবামূলক কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে বীর শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি এলাকার ২০টি দুস্থ পরিবারের আজীবন দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন শ্রীজীব মাইতি। তাঁর প্রয়াত পিতা স্বর্গীয় রঞ্জিত মাইতির স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন গৌরহাটি রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ প্রাণা রামানন্দ মহারাজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরশুড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা কারা ও আইন বিভাগের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বিমান ঘোষ, আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ, প্রধান অতিথি আরামবাগের এসডিপিও সন্দীপ নন্দী, আইসি সমিত তালুকদার, চিরঞ্জীব মাইতি-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।শ্রীজীব মাইতি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গৌরহাটি এলাকার সেবায়ন সংঘের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে ২০টি দুস্থ পরিবারকে চিহ্নিত করেছেন। সেই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতেই তাঁর এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, তাঁর পিতা স্বর্গীয় রঞ্জিত মাইতির স্মরণে ওই ২০টি পরিবারের আজীবন দায়িত্বভার তিনি গ্রহণ করেছেন। সেবায়ন সংঘের সদস্যদের মাধ্যমে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিবারগুলির কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।গৌরহাটি রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ প্রাণা রামানন্দ মহারাজ বলেন, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ যখন নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত, তখন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শ্রীজীব মাইতির সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মঠের সঙ্গে যুক্ত এবং দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের আর্থিকভাবে সাহায্য করে আসছেন। খানাকুলে বন্যার সময়ও তাঁর দলের সদস্যরা বানভাসি মানুষের কাছে শুকনো খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দিয়েছেন।রামানন্দ মহারাজ আরও বলেন, একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই যেখানে অনেকের কাছে কঠিন, সেখানে ২০টি পরিবারের আজীবন দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত বড় ব্রত। এই মানবিক কাজে শ্রীজীব মাইতি ব্রতী হয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগের জন্য আশীর্বাদ ও শুভকামনা জানান তিনি।স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি দুস্থ পরিবারগুলির দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব গ্রহণের এই উদ্যোগ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।