Skip to content

দেশের মেধাতালিকায় চমক, সিবিএসই দশমে চতুর্থ হয়ে নজর কাড়ল ঘাটালের সেময়ন্তী

নিজস্ব সংবাদদাতা: তথাকথিত বড় শহরের দাপটকে পিছনে ফেলে মেধার জোরে নজির গড়ল ঘাটাল মহকুমা। সিবিএসই বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে চতুর্থ স্থান অধিকার করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করল মারিচ্যা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মিশনের ছাত্রী সেময়ন্তী দাস। তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৪ শতাংশ—যা এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এক অনন্য কৃতিত্ব।সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, শুধু সেময়ন্তী নয়, ওই স্কুলের আরও দুই ছাত্রীও উজ্জ্বল সাফল্য পেয়েছে। আগাথা জানা ৯৮.৪ শতাংশ এবং অদ্রিজা ঘোষ ৯৮.২ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে। স্কুলের কর্ণধার রফিক আলি খান জানান, মোট ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ভালো নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উচ্চ নম্বর পেয়েছে, যা স্কুলের সার্বিক শিক্ষার মানকেই প্রমাণ করে।ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল সেময়ন্তীর। তবে সে শুধুমাত্র বইয়ের গণ্ডিতেই নিজেকে আটকে রাখেনি। নিয়মিত অধ্যাবসায়, শিক্ষকদের সঠিক দিশা এবং কঠোর পরিশ্রমই তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করত সে, পাশাপাশি চারটি টিউশনের সাহায্যও নিয়েছে। গণিত ও বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়েও তার অসাধারণ নম্বর শিক্ষা মহলে ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।পড়াশোনার পাশাপাশি সেময়ন্তীর অন্য আগ্রহও রয়েছে। অবসর সময়ে ছবি আঁকা ও গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে সে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি তার অতিরিক্ত আসক্তি নেই—যা তার মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।চন্দ্রকোণা শহরের গাজিপুরে সেময়ন্তীর বাড়ি। বাবা সৌরভ দাস স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, মা দেবশ্রী দাস গৃহবধূ। দাদা শুভ্রদীপ বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। পরিবারের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তার পথচলাকে সহজ করেছে বলে জানায় সেময়ন্তী।ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছে সে। উচ্চমাধ্যমিক একই স্কুলে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। পরবর্তীতে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করার স্বপ্ন দেখছে এই মেধাবী ছাত্রী।ঘাটালের মতো একটি মহকুমা থেকে এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে অন্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—এমনটাই মত শিক্ষা মহলের।

Latest