বাঁকুড়াতে রাতের অন্ধকারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির দোতলা বাড়ি, প্রাণে বাঁচলেন পরিবারের ৯ সদস্য

বাঁকুড়াতে রাতের অন্ধকারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির দোতলা বাড়ি, প্রাণে বাঁচলেন পরিবারের ৯ সদস্য

প্রেম চাঁদ ফৌজদার:একটানা বৃষ্টিতে মাটির বাড়ির দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তারই মধ্যে গভীর রাতে আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির দোতলা বাড়ি। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন একই পরিবারের ৯ জন সদস্য। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়া জেলার লাউগ্রাম পঞ্চায়েতের সেহার গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটির মালিক নবকুমার মল্লিক। দীর্ঘদিনের পুরনো মাটির তৈরি দোতলা বাড়িটির উপরে ছিল অ্যাসবেস্টসের ছাউনি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এ বছর লাগাতার বৃষ্টির কারণে বাড়ির মাটির দেওয়ালগুলিতে জল ঢুকে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থাতেই মঙ্গলবার রাত প্রায় দু’টো নাগাদ বাড়িটির পূর্ব দিকের দেওয়াল আচমকা ভেঙে পড়ে।পরিবারের বড় ছেলে ঝন্টু মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই মাটির বাড়িতে তাঁদের পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য বসবাস করতেন। রাতের দিকে আচমকা প্রচণ্ড শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় তাঁদের। এরপর পরিবারের সকলেই দ্রুত বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। বাইরে এসে তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির একটি অংশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে।পরিবারের সদস্য শম্পা মল্লিক ও রিম্পা মল্লিকের কথায়, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বাড়ির মাটির দেওয়ালগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভিজে ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে ছিল। তাঁদের অনুমান, দেওয়ালগুলি অতিরিক্ত ভিজে যাওয়ার কারণেই বাড়িটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে তাঁরা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছে মল্লিক পরিবার। পরিবারের সদস্য পিন্টু মল্লিকের দাবি, গত প্রায় ২০ বছর ধরে তাঁদের পরিবার বিজেপির সমর্থক। তাঁর অভিযোগ, সিপিএমের আমল থেকে তৃণমূল সরকারের সময় পর্যন্ত তাঁরা সরকারি কোনও সহায়তা পাননি।পিন্টু মল্লিকের আরও দাবি, তাঁদের গ্রামের বহু বাগদী পরিবার বিজেপির সমর্থক হওয়ায় তাঁরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে জানানো হয়েছে। ভেঙে পড়া বাড়ির পর পরিবারের সদস্যদের এখন কোথায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় হবে এবং তাঁরা সরকারি কোনও সাহায্য পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পরিবারটি।