বন্ধ হস্টেল চালু থেকে পৃথক সাঁওতালি বোর্ড—একাধিক দাবিতে বাঁকুড়ায় ডেপুটেশন দিল আদিবাসী সমাজ

বন্ধ হস্টেল চালু থেকে পৃথক সাঁওতালি বোর্ড—একাধিক দাবিতে বাঁকুড়ায় ডেপুটেশন দিল আদিবাসী সমাজ

নিজস্ব সংবাদদাতা:স্কুল রয়েছে, পড়ুয়া রয়েছে, কিন্তু মাতৃভাষায় পড়াশোনার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই—এই অভিযোগকে সামনে রেখে একাধিক দাবিতে বাঁকুড়া জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দিল আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে জেলাশাসকের দপ্তর চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়।ডেপুটেশনকারীদের মূল দাবি, বাঁকুড়ায় সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষার পরিসর আরও বাড়াতে হবে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করতে ধারাবাহিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য পৃথক সাঁওতালি বোর্ড গঠনের দাবিও তোলা হয়।শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, ডি.এল.এড কলেজে সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা চালু করতে হবে, যাতে সাঁওতালি মাধ্যমে প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করা যায়। তাঁদের বক্তব্য, প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি না হলে মাতৃভাষায় শিক্ষার পরিকাঠামো কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।এ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসগুলি পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে। ডেপুটেশনকারীদের বক্তব্য, বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত এলাকার বহু আদিবাসী পড়ুয়ার পক্ষে প্রতিদিন দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। ছাত্রাবাসগুলি ফের চালু হলে সেই সমস্ত পড়ুয়া বিশেষভাবে উপকৃত হবে।আন্দোলনকারীদের দাবি, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। দাবিগুলি দ্রুত কার্যকর করার আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত ডেপুটেশন জমা দেন তাঁরা।মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার এবং সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধির দাবিতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে আদিবাসী সমাজের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা এদিন ফের প্রকাশ্যে এল।