আহমদ হুসাইন লস্কর,আসাম : আসামের শিলচর-সাইরং যাত্রীবাহী ট্রেনে দিন দিন বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি। অভিযোগ, মিজোরামগামী কিছু ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ ভারী মালপত্র ট্রেনের বগিগুলির যাতায়াত পথ দখল করে রাখায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা। বিশেষ করে মহিলা, শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ যাত্রীদের চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের একাংশের আশঙ্কা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বগি ত্যাগ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।গত শনিবার ১৩ই জুন শিলচর-সাইরং যাত্রীবাহী ট্রেনে সফরকালে এই পরিস্থিতির সাক্ষী হন হাইলাকান্দি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি মান্না খান। ট্রেনের অভ্যন্তরে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র দেখে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মান্না খান বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাই রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে কিছু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মালপত্রের কারণে সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে এবং খুব শীঘ্রই বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিলচর-সাইরং রুটে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, অথচ সেই তুলনায় বগির সংখ্যা অপর্যাপ্ত। ফলে প্রতিদিনই অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনের দাঁড়ানোর সময় বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, সীমিত সময়ে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর ওঠানামা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।এদিকে, নিয়মিত যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চললেও রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।যাত্রীদের দাবি, বগির ভিতরে মালপত্রের স্তূপ জমে থাকায় এক বগি থেকে অন্য বগিতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদেরও মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তবুও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রী মহলে।অনেকেরই প্রশ্ন, যাত্রীবাহী ট্রেন কি যাত্রী পরিবহনের জন্য, নাকি মাল পরিবহনের জন্য? তাঁদের মতে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বগির ব্যবস্থা, নিরাপদ যাত্রা এবং স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত সময় ধরে ট্রেন দাঁড়ানোর মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।যাত্রীদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যাত্রীস্বার্থে অতিরিক্ত বগি সংযোজন, যাত্রীবাহী ট্রেনে অনিয়ন্ত্রিত মালপত্র পরিবহারের উপর কঠোর নজরদারি এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ।