Skip to content

ভোটার তালিকা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ,বিজেপি-কমিশনকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিষেক!

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ঘিরে সোমবার রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছল বাংলায়। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের সভামঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের অবস্থানকেই মান্যতা দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। স্পষ্ট ভাষায় অভিষেকের মন্তব্য, “যারা বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের দু’গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সুপ্রিম কোর্ট।” সোমবার দুপুর সওয়া দু’টো নাগাদ বারাসতের কাছারি ময়দানের সভামঞ্চে ওঠেন অভিষেক। তার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই এসআইআর সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসে। আদালত জানিয়ে দেয়, ভোটারদের তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শুধু তাই নয়, সেই তালিকা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিস ও ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙানোর নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

এই নির্দেশকে বড় রাজনৈতিক জয় হিসেবে তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “বিজেপির এসআইআর-এর খেলা আজ শেষ। আমরা প্রথম থেকেই বলেছিলাম, কারা কেন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে।” নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘সহযোগী’ বলে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ তোলেন, নথিপত্র ঠিক থাকার পরেও গত কয়েক মাস ধরে গরিব, প্রান্তিক ও বয়স্ক মানুষদের নাম পরিকল্পিত ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, গত ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখনই তৃণমূলের দাবি ছিল, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে যাঁদের শুনানি নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। “কমিশন তখন সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, তালিকা প্রকাশ করবে না। কারণ তালিকা বেরোলেই তাদের কারসাজি ধরা পড়ে যেত,” বলেন অভিষেক।

ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নির্দিষ্ট ১৩ টি নথির উল্লেখ করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল না মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। কিন্তু এই নথি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য – এই যুক্তিতে নাগরিকত্বের জন্যও তা গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। নানা স্তরে সেই আবেদন  উঠেছিল।  মনে করা হচ্ছিল, এই নথিটি গ্রাহ্য হবে।  ফলে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের কাছ থেকে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছেন বিএলও। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গণ্য হবে না।  ফলে বহু মানুষ নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা করেন। ঘটনার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। এদিন শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিটকে এসআইআরে নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

পাশাপাশি বিএলএদের হিয়ারিংয়ে উপস্থিত থাকার অনুমতিও দিয়েছে  শীর্ষ আদালত। শুনানিকেন্দ্রে বুথস্তরের এজেন্ট (বিএলএ-২)-দের উপস্থিতি নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আদালত জানিয়েছে, কোনও ভোটার চাইলে পরিবারের সদস্য বা বিএলএ-কে প্রতিনিধি করে নথি জমা দিতে পারেন। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম বিএলএ-২ থাকতেই হবে। কমিশন তখন মানেনি। আজ বিচারপতিরাই বললেন, বিএলএ থাকতে পারেন।”

এই নির্দেশকে বাংলার মানুষের জয় বলে ব্যাখ্যা করে অভিষেক বলেন, “এক কোটি মানুষকে বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আজ সেই ষড়যন্ত্রে দাঁড়ি পড়ল। এটা খেটে খাওয়া মানুষের জয়, বাংলার জয়, মা-মাটি-মানুষের জয়।”

বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর হুঁশিয়ারি, “কার ক্ষমতা বেশি মোদিজি? দশ কোটি মানুষের, না বিজেপির জমিদারদের? আজ কোর্টে হারালেন, এপ্রিলে ভোটে হারাব। তৈরি থাকুন।” একই সঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচার, ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তুলে মোদি-শাহ জুটিকেও নিশানা করেন তৃণমূলের সেনাপতি।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূল আরও আক্রমণাত্মক হবে। বারাসতের সভা থেকে কার্যত নির্বাচনী যুদ্ধের সুর বেঁধে দিয়ে গেলেন তিনি।

Latest